নিকাশি নালা পরিষ্কার করতে নেমে মৃত্যু হয়েছে ন্যাজাটের বাসিন্দা সুমন সর্দারের (৩২)। রবিবার সকালে বানতলা চর্মনগরীতে কেএমডিএ-র নিকাশি নালা সাফাই করতে ম্যানহোলে নেমে সুমন-সহ তিন শ্রমিকের বেঘোরে মৃত্যুতে ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সুমনের দৃষ্টিহীন বাবা দয়াল সর্দার একই সঙ্গে একটি চাকরির দাবিও জানিয়েছেন।
একমাত্র রোজগেরে ছেলেকে হারিয়ে চোখের জল বাধ মানছে না বৃদ্ধের। সোমবার ন্যাজাটের পাঁচ নম্বর পাড়ায় বাড়ির দাওয়ায় বসে তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ এসে জানালো, ছেলে আর নেই। চারটি সন্তান সুমনের। সকলেই ছোট। আমি আর ওর মা কাজ করার ক্ষমতা হারিয়েছি। তবুও যে কোনও উপায়ে আয়ের পথ করে দিক সরকার। শুধু দশ লক্ষ টাকা পেয়ে আমাদের কী করে জীবন চলবে!’’
সুমনের মা সাজোবালা বলেন, ‘‘গত সপ্তাহেই ঠিকাদার ডাকল। ছেলে বাড়ি থেকে গেল। বলেছিল, সামনের সপ্তাহে ফিরবে। কিন্তু আর তো কোনও দিন ফিরবে না!’’
গ্রামবাসীদের প্রশ্ন, পুরসভার কাজ করতে গিয়ে সুমনের মৃত্যু হয়েছে। কেন ওই কাজ করার জন্য শ্রমিকদের উপযুক্ত নিরাপত্তা থাকবে না? গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং কারও গাফিলতি থাকলে তাদের শাস্তিরও দাবি তুলেছেন পড়শিরা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন এআইইউটিইউসি’র (অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টার) তরফে দাবি করা হয়েছে, নিরপেক্ষ তদন্ত করে মৃত্যুর জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। মৃত শ্রমিকের পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও এক জনের চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। রাজ্যের সমস্ত পুরসভাকে ২০১৩ সালের আইন ও সুপ্রিম কোর্টের রায়কে মেনে শ্রমিকের উপযুক্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা ছাড়া কোনও কাজ করানো চলবে না বলেও দাবি তাদের। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অশোক দাস বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে এবং শ্রমিক সুরক্ষা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কলকাতা পুর প্রশাসন ও তাদের নিযুক্ত ঠিকাদারেরা যে ভাবে ম্যানহোলে শ্রমিকদের নামিয়ে কাজ করিয়েছেন, তার ফলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)