Advertisement
E-Paper

সেপটিক ট্যাঙ্কে বধূর দেহ, স্বামীকে পেটাল জনতা

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে স্বামীকে গণপিটুনি দিলেন এলাকার মহিলারা। ওই ব্যক্তির বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে দেহ উদ্ধার করতে এসে বিপাকে পড়তে হয় পুলিশকেও। পুলিশ কর্মীদের দিকে ঢিল-পাটকেল ছোড়ে জনতা। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চলে। বধূকে খুনের প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে এলাকায় পথ অবরোধ শুরু হয়। প্রায় চার ঘণ্টা অবরোধ চলে। শনিবার সকালে ঢোলাহাটের উত্তর মহেন্দ্রপুর গ্রামের এই ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে অরুণ পাত্র নামে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ মার্চ ২০১৫ ০১:১১

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে স্বামীকে গণপিটুনি দিলেন এলাকার মহিলারা। ওই ব্যক্তির বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে দেহ উদ্ধার করতে এসে বিপাকে পড়তে হয় পুলিশকেও। পুলিশ কর্মীদের দিকে ঢিল-পাটকেল ছোড়ে জনতা। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চলে। বধূকে খুনের প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে এলাকায় পথ অবরোধ শুরু হয়। প্রায় চার ঘণ্টা অবরোধ চলে। শনিবার সকালে ঢোলাহাটের উত্তর মহেন্দ্রপুর গ্রামের এই ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে অরুণ পাত্র নামে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে।

স্থানীয় দিগম্বরপুর পঞ্চায়েতের প্রধান রবীন্দ্রনাথ বেরা বলেন, “অরুণ মানসিক ভাবে সুস্থ ছিল না। মাঝে মধ্যে মাথা খারাপ হয়ে যায়। আর সে সময়ে যাকে সামনে পায়, তাকেই মারধর করে।” কয়েক বার রাস্তায় পথচারীদেরও সে মারধর করেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। ৮-১০ বছর আগে তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী মারা যান। গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, ওই মহিলাকেও পিটিয়ে মেরেছিল অরুণ। তা নিয়ে থানা-পুলিশও হয়েছিল। গ্রেফতার হয়ে জামিনে ছাড়া পায় অরুণ। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। কিন্তু অরুণের উগ্র স্বভাব পুলিশকে জানানো হলেও তারা কেন আগে অন্য ব্যবস্থা নেয়নি, তা নিয়ে ক্ষোভ আছে বিক্ষোভকারীদের একাংশের। শনিবার উত্তেজিত মহিলারা কেউ কেউ বলেন, “পর পর দুই স্ত্রীকে খুন করেছে ওই ব্যক্তি। তাকে চরম শাস্তি দিতে হবে।”

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দেড়েক আগে অরুণবাবুর সঙ্গে বিয়েছিল কুলতলির সবিতা পাত্রের (২৪)। কয়েক মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা ছিলেন ওই তরুণী।

শুক্রবার বিকেলে সবিতার বাবা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে আসেন। মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন। সে সময় জামাইয়ের কথা শুনে তাঁর সংশয় হয়। মেয়ের বাবার দাবি, অরুণ কখনও বলে, সবিতা বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছে। কখনও আবার বলে, মেলায় গিয়ে আর ফেরেনি। এ সব শুনে সন্দেহ দানা বাধে সবিতার বাবার।

জামাইয়ের ভাই ও প্রতিবেশীদের কাছে বিষয়টি জানান তিনি। তাঁদের দাবি, সকলে মিলে অরুণকে চেপে ধরলে সে স্বীকার করে, শুক্রবার বিকেলে স্ত্রীকে পিটিয়ে মেরে ফেলে দেহ বাড়ির পাশে সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে রেখেছে সে।

আশপাশের লোকজন সেপটিক ট্যাঙ্কের মধ্যে সবিতার দেহ পড়ে থাকতেও দেখেন। ঘটনাটি তত ক্ষণে জানাজানি হয়ে গিয়েছে। এলাকার কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কয়েকশো মহিলা চলে আসেন ওই বাড়িতে। অরুণকে টেনে বের করে শুরু হয় মারধর। বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিন্তু সবিতার দেহ উদ্ধারে বাধা দেন মারমুখী মহিলারা। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। ঢিল-পাটকেল মারা হয়। অরুণকেও উদ্ধার করতে বাধা দেওয়া হয়। পরে কাকদ্বীপ, পাথরপ্রতিমা, কুলপি থানায় বিশাল পুলিশবাহিনী এলাকায় আসে। উদ্ধার করে অরুণকে পাঠানো হয় হাসপাতালে। পুলিশ জানায়, রবিবার আদালতে তোলা যায়নি ওই ব্যক্তিকে। তার চিকিত্‌সা চলছে।

southbengal Dholahat septic tank Arun patra Rabindranath Bera Mahendrapur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy