E-Paper

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু, ক্ষতিপূরণের দাবিতে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ

ক্ষতিপূরণের দাবিতে দেহটি গোলাবাড়ি সংলগ্ন টাকি রোডে রেখে অবরোধ শুরু করেন মৃতের পরিবার ও স্থানীয়েরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১১
মৃত সাইফুল ইসলাম।

মৃত সাইফুল ইসলাম।

বাড়ির ছাদ‌ের উপর দিয়ে বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টের হাইটেনশন তার গিয়েছে। সেখানেই কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সেই তারে হাত লেগে যাওয়ায় মৃত্যু হল এক নির্মাণ শ্রমিকের। অভিযোগ, বাড়ির মালিক ঝুঁকি সত্ত্বেও প্রলোভন দেখিয়ে কাজ করিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। সোমবার এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে শাসন থানার গোলাবাড়ি এলাকা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সাইফুল ইসলাম (৩৪)।

এ দিন ক্ষতিপূরণের দাবিতে দেহটি গোলাবাড়ি সংলগ্ন টাকি রোডে রেখে অবরোধ শুরু করেন মৃতের পরিবার ও স্থানীয়েরা। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে রাস্তা দ্রুত অবরোধমুক্ত করতে গেলে মৃতের পরিবারের সঙ্গে শাসন থানার পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠি চালায় বলেও অভিযোগ। ঘটনাস্থল থেকে কয়েক জনকে আটক করলেও পুলিশের হাত থেকে তাঁদের ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। পরে বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপারের নেতৃত্বে বিরাট বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। অতিরিক্ত সুপার দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর জেরে রাস্তা অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা, পুলিশের কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর হয়েছে। কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, গোলাবাড়ি বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সাইফুল পেশায় রাজমিস্ত্রি। বাড়িতে তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। গোলাবাড়িরই বাসিন্দা ফারুক ইসলামের বাড়িতে কাজ চলছিল। বাসিন্দাদের দাবি, ঝুঁকি থাকায় কেউ কাজটি করতে চাইছিলেন না। কিন্তু সাইফুলকে টাকার টোপ দিয়ে রাজি করিয়েছিলেন ফারুক। এই ঘটনায় তাই ক্ষুব্ধ পরিবার এবং স্থানীয়েরা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে সাইফুলের দেহ রাস্তায় রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। সাইফুলের দাদা মহম্মদ ফিরদৌস ইসলাম বলেন, ‘‘ভাইকে দিয়ে জোর করে ঝুঁকির কাজ করানো হয়েছে। সেই জন‍্যই ভাইকে মরতে হল। ভাইয়ের ছোট ছোট তিনটি সন্তান রয়েছে। তাদের দায়িত্ব কে নেবে? বাড়ির মালিকের কঠোর শাস্তি চাই।’’

এ দিন ছিল মাধ্যমিক পরীক্ষা। গোলাবাড়ি সংলগ্ন কয়েকটি স্কুলে পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। ফলে টাকি রোড অবরোধ করায় পরীক্ষার্থীদের সমস্যা হবে বুঝেই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে রাস্তা মুক্ত করে। দেহ নিয়ে দাদার মোড় সংলগ্ন আর একটি রাস্তা ফের অবরোধ করা হয়। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক চলে বিক্ষোভ।

পুলিশ দেহ সরাতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয় দাদার মোড়ে। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর হয়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠি চালায় বলে অভিযোগ। তবে আটক কয়েক জনকে পুলিশের থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মৃতের পরিবার ও স্থানীয়দের বিরুদ্ধে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Barasat

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy