E-Paper

উন্নয়নে ‘পক্ষপাত’, অভিযুক্ত প্রধানের স্বামী

গোপালপুর ২ পঞ্চায়েত এলাকার বেশ কিছু রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা কার্যত বেহাল। বর্ষায় নিকাশি নালা না থাকায় রাস্তা-সহ যত্রতত্র জল জমে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৫ ০৭:০১
—প্রতীকী চিত্র।

—প্রতীকী চিত্র।

স্ত্রী পঞ্চায়েত প্রধান, স্বামী তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে পঞ্চায়েতের উন্নয়ন তহবিলের অধিকাংশ টাকাই নিজের পাড়ায় খরচ করেছেন তাঁরা। ফলে থমকে গিয়েছে পঞ্চায়েতের অন্য সদস্যদের এলাকার উন্নয়ন। হাড়োয়ার গোপালপুর ২ পঞ্চায়েতের ঘটনা। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই দম্পতি।

গোপালপুর ২ পঞ্চায়েত এলাকার বেশ কিছু রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা কার্যত বেহাল। বর্ষায় নিকাশি নালা না থাকায় রাস্তা-সহ যত্রতত্র জল জমে। পঞ্চায়েত প্রধান আজমিরা বিবির স্বামী বাগবুল কালাম মুন্সি অঞ্চল সভাপতি। অভিযোগ, স্ত্রী প্রধান হওয়ার সুযোগ নিয়ে পঞ্চায়েতের অন্য সদস্যদের এলাকার উন্নয়নের ভাগের টাকা নিয়ে ভুবনপুরে নিজের বাড়ির সামনের রাস্তা সংস্কার, নর্দমা তৈরি ও রাস্তার পাশের পুকুরের পাড় পাকা করছেন বাগবুল। বাগবুল অবশ্য বলেন, ‘‘আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে দলের একাংশ চক্রান্ত করে এই অভিযোগ করছে। নিয়ম মেনেই সব কাজ হয়েছে।’’

পঞ্চায়েতের অন্য সদস্যদের অভিযোগ, ১৫ জন সদস্যের মধ্যে ভুবনপুর গ্রামে উন্নয়নমূলক কাজ বেশি হয়েছে। ঢালাই রাস্তা, নর্দমা, পুকুর পাড় পাকা ও রাস্তায় আলো বসানো হয়েছে। এই উন্নয়ন অন্যত্র হয়নি। অভিযোগ, অন্য পঞ্চায়েত সদস্যদের এলাকার বরাদ্দ টাকা দিয়েই অঞ্চল সভাপতি নিজেরা ‘প্রভাব খাটিয়ে’ উন্নয়ন করেছেন। এ নিয়ে প্রশাসন ও দলের নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মফিজুল মোল্লা ও আব্দুল সামাদ বলেন, ‘‘পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামের রাস্তা সংস্কারের জন্য বোর্ড তৈরির পরেও কাজ হয়নি। ওই টাকা দিয়ে অঞ্চল প্রধান নিজের বাড়ির রাস্তা, নর্দমা ও পুকুরের পাড় বাঁধিয়েছেন।’’ ভুবনপুরের তৃণমূল নেতা মিঠুন সর্দার ও এক পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী জাকির হোসেন বলেন, ‘‘স্ত্রী প্রধান হওয়ার সুযোগ নিয়ে অঞ্চল সভাপতি বাগবুল বাকি পঞ্চায়েত সদস্যদের এলাকার উন্নয়নের টাকা নিয়ে নিজের বাড়িতে যাতায়াতের পুকুরের পাড় বাঁধানো, রাস্তা ও নর্দমা তৈরি এবং আলো লাগানোয় মানুষের কাছে আমরা খারাপ হচ্ছি।’’

বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার পর্যবেক্ষক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘‘তৃণমূলের নেতা, জনপ্রতিনিধিরা মানুষের কথা ভাবেন না। শুধু নিজেদের কথা ভাবেন। হাড়োয়ায় অরাজকতা চলছে। নির্বাচন থেকে উন্নয়ন— সবটাই প্রহসন ওখানে।’’

এ বিষয়ে হাড়োয়ার বিধায়ক রবিউল ইসলামের প্রতিক্রিয়া, ‘‘কেউ আমাকে এ নিয়ে কিছু বলেনি। আমি জানিও না। খোঁজ নিয়ে দেখব।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy