Advertisement
E-Paper

চিকিৎসককে ভাড়া বাড়িতে ঢুকতে বাধা

স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে ওই মহিলা চিকিৎসক গ্রামীণ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ওই দিন ভোর ৩টে নাগাদ স্থানীয় এক যুবক জ্বর সর্দি-কাশি নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন।

নিজস্ব সংবাদদাতা 

শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২০ ০৬:০৬
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

রাজ্যের শীর্ষ কর্তারা একাধিকবার জানিয়েছেন, কোনও স্বাস্থ্যকর্মীকে ঘর থেকে বের করে দিতে পারবেন না বাড়ির মালিক। কিন্তু সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক মহিলা চিকিৎসকের কাছ থেকে ঘরের চাবি কেড়ে নিয়ে তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। কুলপির গ্রামীণ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ওই চিকিৎসক প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।

স্বাস্থ্য দফতর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুলপি গ্রামীণ হাসপাতালের ওই মহিলা চিকিৎসকের বাড়ি ওই এলাকায় নয়। ৮ মাস আগে কুলপি গ্রামীণ হাসপাতাল যোগ দেন তিনি। ওই হাসপাতালে যথেষ্ট সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন না থাকায় তিনি হাসপাতালের কাছেই একটি ভাড়া বাড়িতেই ছিলেন। অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ফিরে নিজের ঘরে ঢুকতে গেলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। তাঁর কাছ থেকে ঘরের চাবিও কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে ওই মহিলা চিকিৎসক গ্রামীণ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ওই দিন ভোর ৩টে নাগাদ স্থানীয় এক যুবক জ্বর সর্দি-কাশি নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই রোগীর করোনার কিছু উপসর্গ বুঝে মহিলা চিকিৎসক তাঁকে ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু রোগীর বাড়ির লোকজন ডায়মন্ড হারবার না নিয়ে গিয়ে কলকাতার আরজিকরে নিয়ে যান। রবিবার রাতে সেখানে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। সোমবার সকালে পরিবারের লোকজন দেহ আনতে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, মৃতদেহ পরীক্ষা করতে হবে। করোনা পজিটিভ হলে দেহ দেওয়া যাবে না। নেগেটিভ হলে পরিবারের লোকজন দেহ পাবেন। ওই যুবকের করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে, এ খবর রটে যায় কুলপি এলাকায়। যদিও ওই চিকিৎসক মৃতের পরিবারের লোকজন ও অ্যাম্বুল্যান্স চালককে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেন। মঙ্গলবার সকালে গ্রামীণ হাসপাতালে কর্তব্যরত ছিলেন ওই মহিলা চিকিৎসক। তাঁর অভিযোগ, ঘর পরিষ্কারের কথা বলে বাড়ির মালিক লোক পাঠিয়ে তাঁর কাছে থেকে ঘরের চাবি নিয়ে আসেন। দুপুরে ওই চিকিৎসক ফিরে দেখেন ঘর তালাবন্ধ। চাবি চাইতে গেলেই তাঁকে নানা কটূ কথা শুনতে হয়েছে বলে অভিযোগ। এর পর তিনি তাঁর নিজের বাড়িতে ফিরে যান। ওই চিকিৎসক জানান, ভাড়া থাকতাম। ওই বাড়ির মালিক তাঁর নামে নানা কথা রটাচ্ছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে। কোনও মতেই ওই বাড়িতে আমি ফিরতে চাই না। তবে ঘরে থাকা আমার সরঞ্জামগুলি ফিরিয়ে নিতে চাই।’’

তিনি বিষয়টি ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছেন। ওই ঘরের মালিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার হয়েছিল। কিন্তু তাঁর মোবাইল বন্ধ ছিল। এসএমএসেরও কোনও উত্তর দেননি। এ বিষয়ে কুলপির বিডিও সঞ্জীব সেন বলেন, ‘‘পুরো বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ওই চিকিৎসকের থাকার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা করে রেখেছি।’’

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy