খোলা হয়েছে হেল্পলাইন। আলাদা করে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে। নজরদারি রাখা হচ্ছে এলাকার বাইরে থেকে আসা মানুষের উপরে। তবে করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা। বিশেষ করে, কোনও গুজব ছড়াতে বার বার বারণ করছে প্রশাসন। গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের হিসেব বলছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ হননি। কিন্তু অনেকেই জ্বর, সর্দি-কাশিতে ভুগছেন। তাঁদের এখন বাড়িতেই থাকা ভাল। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রশাসন নজর রাখছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, আশা ও ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কর্মীদের এই কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে।
কেউ বিদেশ থেকে এলে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফর্মপূরণ করে তাঁকে জানাতে হচ্ছে, ওই ব্যক্তি কত তারিখে বিদেশ থেকে ফিরেছেন, কোথায় ছিলেন ইত্যাদি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন টাক্সফোর্স তৈরি করেছে। সমস্ত ব্লক প্রশাসন, মিউনিসিপ্যালিটি এবং পঞ্চায়েত সমিতিকে বিভিন্ন ভাগে কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। বানানো হয়েছে ক্যুইক রেসপন্স টিম। জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে প্রতিটি ব্লকে একটি করে ক্যুইক রেসপন্স টিম তৈরি করা হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন জেলাশাসক পি উলগানাথন।
জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গোসাবা ব্লকে ৪ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাসন্তীতে ৪ জন, ক্যানিং ১ ব্লকে ৩, ক্যানিং ২ ব্লকে ৬, জয়নগর, কুলতলি, বারুইপুরে ৪, সোনারপুরে ১২, ভাঙড় ব্লকে ৬, বিষ্ণুপুর ১ ব্লকে ১৭, বিষ্ণুপুর ২ ব্লকে ১০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তা ছাড়া, রাজপুর-সোনারপুর পুরসভায় ৪৮ জন, বজবজে ৪ জন, জয়নগর পুরসভায় ৩ জন, মহেশতলায় ১০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় ৩ জন, মগরাহাটে ২ জন, ডায়মন্ড হারবার ৫ জন ফলতায় ৩ জন মথুরাপুরে ১ জন, মন্দিরবাজারে ২ জন, নামখানা, কাকদ্বীপে ৬ জন কিছু উপসর্গ নিয়ে ভুগছেন। কুলতলি ব্লকের বেশ কিছু মানুষ কেরলে থাকেন। তাঁরা এখন কাজ থেকে ফিরেছেন। যাঁদের মধ্যে ৬ জনের জ্বর ও ফ্লু সংক্রান্ত ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে। ইতিমধ্যেই এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে সেই সমস্ত রোগীর চিকিৎসা করা হচ্ছে। তবে তাঁদের দেহে যা লক্ষণ পাওয়া গিয়েছে তা করোনাভাইরাস নয় বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সকলের বাড়ি কাকদ্বীপ এলাকায়।
অন্য দিকে, রায়দিঘি এলাকা থেকে তাপস মিস্ত্রি নামে এক ব্যক্তিকে কোয়রান্টিন করা হয়েছে। তিন দিন আগে সৌদি আরব থেকে রায়দিঘি ফিরেছেন ওই ব্যক্তি।
জেলাশাসক বৃহস্পতিবার আলিপুরে ডায়মন্ড হারবার জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক দেবাশিস দে ও দক্ষিণ থানা জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সোমনাথ মুখোপাধ্যায় একটি ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করেন বিভিন্ন ব্লকগুলির সঙ্গে। খতিয়ে দেখা হয় করোনাভাইরাস প্রতিরোধের পরিকাঠামো। কী ভাবে টাস্কফোর্স কাজ করছে তা-ও জানানো হয়। করোনাভাইরাস নিয়ে প্রশাসন মাইকে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার চলছে।
করোনা-সতর্কতা নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি বৈঠক হল ক্যানিংয়ে মহকুমাশাসকের দফতরেও। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ক্যানিংয়ের মহকুমা শাসক বন্দনা পোখরিয়াল, জেলার অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পরিমল ডাকুয়া-সহ মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক, ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক, পুলিশ প্রশাসন ও পঞ্চায়েত প্রশাসনের আধিকারিকরা। করোনাভাইরাস মোকাবিলার কীভাবে সচেতনতা ও সাবধানতা অবলম্বন করা যায় তা নিয়েই এ দিন আলোচনা হয়। এ ব্যাপারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার হবে। আশা কর্মী, এএনএম, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশদের এই কাজে নিয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চায়েতের আধিকারিক, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক, পুলিশ আধিকারিকদেরও এ বিষয়ে উদ্যোগী হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হলে দ্রুত সে বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য আধিকারিকদেরকে ও সেই খবর যাতে পৌঁছে দেন এরা সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইতিমধ্যেই কীভাবে হাত ধুতে হবে, কীভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে তা মানুষকে বোঝাতে শুরু করেছেন। মহকুমা শাসক বলেন, “ভাইরাস মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকেও এ বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। মানুষ সচেতন হলেই এই ভাইরাসকে আমরা প্রতিহত করতে পারব।’’ এ দিকে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই মানুষকে সচেতন করতে ক্যানিং থানার বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং শুরু করেছে পুলিশ। মাইকিং শুরু হয়েছে গোসাবা, সুন্দরবন কোস্টাল, বাসন্তী ও ঝড়খালি কোস্টাল থানা এলাকাতেও।