বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকেই উঠেছিল তিস্তা নদীর প্রসঙ্গ। সোমবার তিস্তা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুঃখ–দুর্দশা সরেজমিনে দেখতে বাংলাদেশের রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করলেন ঢাকায় নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সঙ্গে ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
সোমবার দুপুরে সৈয়দা এবং ওয়েন কাউনিয়া সেতুসংলগ্ন তিস্তার ভাঙনকবলিত এলাকাগুলি নৌকা করে ঘুরে দেখেন। নদীর ভাঙনের মাত্রা, চরাঞ্চলের বাস্তবতা এবং নদীশাসনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে এবং ওয়েনকে অবহিত করেন সৈয়দা। এ সময় দুই দেশের উন্নয়ন, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও।
পরিবেশ উপদেষ্টা নদীপারের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলির খোঁজখবর নেন। স্থানীয়েরা জানান, প্রতিবছর নদীভাঙনে ঘরবাড়ি ও জমি হারিয়ে তারা নিঃস্ব হচ্ছেন। ত্রাণ নয়, তাঁরা নদীর স্থায়ী বাঁধ ও টেকসই সমাধান চান।
পরিদর্শন শেষে সৈয়দা বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চিন কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা করছে এবং তারা এ বিষয়ে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজকের সফর সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।” ওয়েন বলেন, “চিন সবসময় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পাশে থাকতে চায়। তিস্তা নদী অঞ্চলের মানুষের সমস্যাগুলি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আশা করছি শীঘ্রই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।”