Advertisement
E-Paper

ভিনরাজ্য থেকে ফিরতি মানুষের স্বাস্থ্যপরীক্ষার ব্যবস্থা

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহকুমা এলাকায় মধ্যে পড়ে সাগর, নামখানা, পাথরপ্রতিমা ও কাকদ্বীপ ব্লক। অনেকেই কেরল, দিল্লি, গুজরাতে শ্রমিকের কাজে যান। ভাইরাস-আতঙ্কে অধিকাংশই এখন ফিরছেন গ্রামের বাড়িতে।

দিলীপ নস্কর  

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২০ ০৬:৪৪
কাকদ্বীপ লট ৮ ঘাটে চলছে শিবির। নিজস্ব চিত্র

কাকদ্বীপ লট ৮ ঘাটে চলছে শিবির। নিজস্ব চিত্র

কাকদ্বীপ মহকুমার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিনরাজ্যে কাজে গিয়েছিলেন যাঁরা, তাঁরা করোনোভাইরাসের আতঙ্কে দলে দলে বাড়িতে ফিরছেন। বাড়ি ঢোকার আগে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনও উপসর্গ দেখলে তাঁদের কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানোর জন্য রয়েছে গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পাঁচজন আইসোলেশনে আছেন।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহকুমা এলাকায় মধ্যে পড়ে সাগর, নামখানা, পাথরপ্রতিমা ও কাকদ্বীপ ব্লক। অনেকেই কেরল, দিল্লি, গুজরাতে শ্রমিকের কাজে যান। ভাইরাস-আতঙ্কে অধিকাংশই এখন ফিরছেন গ্রামের বাড়িতে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভিনরাজ্য থেকে ফিরলে এই মুহূর্তে স্বাস্থ্যপরীক্ষা বাধ্যতামূলক। আর সে কারণেই নড়েচড়ে বসেছে কাকদ্বীপ পুলিশ, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর। ইতিমধ্যে সাগরদ্বীপে যাঁরা ফিরছেন, তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কাকদ্বীপের লট ৮ ঘাটের কাছে তৈরি করা হয়েছে ক্যাম্প। সেখানে একজন চিকিৎসক ও তিনজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। ভেসেলে ওঠার আগে যাত্রীদের ডেকে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। জানতে চাওয়া হচ্ছে, জ্বর-সর্দি-কাশি বা শ্বাসকষ্ট আছে কিনা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দেখা গেল, লট ৮ ঘাটের ক্যাম্পে ডেকে নেওয়া হয়েছে সাগরের বামনখালির বাসিন্দা রুহুল শেখ, মন্দিরতলার বাসিন্দা সামসের আলিকে। বেঙ্গালুরুতে ইটভাটার কাজে গিয়েছিলেন। করোনাভাইরাসের ভয়ে বাড়ি ফিরছেন। হাওড়া স্টেশন বেরোনোর পরে এক দফা রক্ত পরীক্ষা হয়েছে। সেখানে জানা গিয়েছে, সুস্থই আছেন।

ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্যকর্মী জলধর ঘোষ বলেন, "আমরা সকাল থেকেই এই ক্যাম্প শুরু করেছি। প্রায় প্রত্যেককে ডেকে স্বাস্থ্য নিয়ে খোঁজ নিচ্ছি। আমাদের স্বাস্থ্য দফতর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, করোনাভাইরাসের কোনও লক্ষণ দেখলেই কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে পাঠাতে হবে। আমাদের কাছে জ্বর-কাশি-সর্দি পেটে ব্যথার ওষুধ মজুত রয়েছে। সাগর ব্লক মেডিক্যাল অফিসার অলোকেন্দু ঘোষ বলেন, "ভিনরাজ্য থেকে সাগরদ্বীপে এখনও পর্যন্ত ফিরেছেন ৯৫ জন। ওঁদের হাসপাতালে এনে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪২৮ জন ভিনরাজ্যে রয়েছেন। কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতাল ১০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি হয়েছে। আরও ৪০টি শয্যা বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ করা হচ্ছে। হাসপাতালের সুপার রাজর্ষি দাস বলেন, "এখনও পর্যন্ত জ্বর-সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে যাঁরা ভর্তি রয়েছেন, তাঁদের বিস্তারিত তথ্য স্বাস্থ্য ভবনে পাঠানো হয়েছে। এঁদের মধ্যে দু'জন ভিনরাজ্যে ছিলেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাকদ্বীপ মহকুমা এলাকা জুড়ে রয়েছে পান মার্কেট মার্কেট সহ অন্যান্য বাজার। ওই বাজারগুলিতে যাতে বেশি জমায়েত না হয়, সে জন্য নজরদারি শুরু হয়েছে। এ ছাড়া, কাকদ্বীপ, নামখানা পাইকারি মাছ বাজারের নিলামে যাতে বেশি জমায়েত না হয়, সে দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। সমস্ত পঞ্চায়েতগুলিকে প্রশাসন থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন ট্যাবলো করে সরকারি নির্দেশিকাগুলি নিয়মিত প্রচার করে। কাকদ্বীপের মহকুমাশাসক শৌভিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, "কাকদ্বীপ, নামখানার বিভিন্ন বাজার, জনবহুল এলাকায় বা স্টেশনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শিবির করা হয়েছে। গাড়িও মজুত থাকছে। কোনও লক্ষণ ধরা পড়লেই সঙ্গে সঙ্গেই কাকদ্বীপ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

Coronavirus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy