Advertisement
E-Paper

বনগাঁয় ফের করোনার হদিস

এ দিকে ওই যুবকের কার্যকলাপ ঘিরে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁকে হোম কোয়রান্টিনে থাকার পরামর্শ দিলেও তিনি মানেননি।

নিজস্ব সংবাদদাতা   

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২০ ০২:৪৫
মিলেছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। তবু হুঁশ ফেরেনি মানুষের। গোপালনগরের বাজারে ভিড়। নিজস্ব চিত্র।

মিলেছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। তবু হুঁশ ফেরেনি মানুষের। গোপালনগরের বাজারে ভিড়। নিজস্ব চিত্র।

প্রাক্তন সেনাকর্মীর পর এ বার এক পুলিশ কর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন বনগাঁ মহকুমায়।

ওই পুলিশ কর্মীর বাড়ির গোপালনগরে। তিনি হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় কর্মরত। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে যুবকের করোনা প‌জ়িটিভ হওয়ার রিপোর্ট আসে স্বাস্থ্য দফতরের কাছে। রাতেই তাঁকে বারাসতে করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ দিকে ওই যুবকের কার্যকলাপ ঘিরে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁকে হোম কোয়রান্টিনে থাকার পরামর্শ দিলেও তিনি মানেননি। স্থানীয় আকাইপুর পঞ্চায়েতের প্রধান উজ্জ্বল পাল বলেন, ‘‘আমাদের এখানকার বাসিন্দা এক যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। জানতে পেরেছি, ওই যুবক হোম কোয়রান্টিনে না থেকে এলাকায় খেলাধুলা করেছেন। তাসের আসরে বসেছেন। রেশন দোকান, মিষ্টির দোকানেও গিয়েছিলেন।’’

বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসের প্রশ্ন, ওই যুবক কী ভাবে বাইরে ঘোরাঘুরি করলেন? কেন তাঁর উপরে নজর রাখা হল না?’’ কোয়রান্টিনে পাঠানোর পরে তাঁরা কে কী করছেন, তার উপরে নজরদারি থাকছে কিনা, সে প্রশ্ন ফলে থেকেই যাচ্ছে।

বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, তাঁরা যুবককে বাড়ির বাইরে ঘুরতে দেখেছেন। স্বাভাবিক ভাবেই যুবক করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছাড়িয়েছে।

পুলিশ-প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে হাওড়ায় চিকিৎসকেরা পরীক্ষার জন্য ওই যুবকের লালারস সংগ্রহ করেছিলেন।

চিকিৎসকেরা তাঁকে বাড়ি গিয়ে হোম কোয়রান্টিনে থাকার পরামর্শ দেন। যুবক তাঁর এক আত্মীয়ের বাইকে চেপে বাড়িতে ফিরে আসেন। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরাও তাঁর বাড়িতে গিয়ে হোম কোয়রান্টিনে থাকতে নির্দেশ দিয়ে আসেন। অভিযোগ, সে সব কথার তোয়াক্কা করেননি ওই যুবক। যে যুবকের বাইকে করে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি, তাঁর শ্বশুরবাড়ি গোপালনগরে। তিনি শ্বশুরবাড়িতেও গিয়েছিলেন বলে জানতে পেরেছে প্রশাসন।

কেন যুবকের রিপোর্ট আসার আগে তাঁকে বাড়ি পাঠানো হল, সে প্রশ্নও তুলছেন অনেকে। হাওড়াতেই কেন কোয়রান্টাইনে রাখা হল না, প্রশ্ন স্থানীয় বহু মানুষের।

ব্লক স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবকের যে লালারস পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছিল, তা তাঁরা প্রথমে জানতে পারেননি।

বনগাঁর বিএমওএইচ মৃগাঙ্ক সাহা রায় বলেন, ‘‘রবিবার যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত জানতে পেরেই পরিবারের লোকজনকে হোম কোয়রান্টাইনে রাখা হয়েছে। যুবককে বারাসতে করোনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই যুবক বাড়ির বাইরে কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তা খুঁজে বের করে স্বাস্থ্য দফতর ও পঞ্চায়েতের তরফে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সকলকে হোম কোয়রান্টাইনে রাখা হচ্ছে।’’ সোমবার সকালে আক্রান্ত যুবকের বাড়ির এলাকার রাস্তা সিল করে দেওয়া হয়েছে।

বনগাঁর মহকুমাশাসক কাকলি মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এলাকা বাঁশ দিয়ে ঘিরে কনটেন্টমেন্ট জোন তৈরি করা হয়েছে। আকাইপুর বাজার বন্ধ করা হয়েছে। যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পঞ্চায়েতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বাসিন্দাদের ওষুধ, পানীয় জল, অত্যাবশক খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেবেন পুলিশ, পঞ্চায়েত ও স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা। দমকল গিয়ে এলাকা স্যানিটাইজ করছে।’’

আকাইপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় মানুষ বাঁশের ব্যারিকেট দিয়ে বহিরাগতদের ঢোকা বন্ধ করতে শুরু করেছেন। এই ঘটনার পরও অবশ্য গোপালনগর বাজারে দেখা গেল মানুষের ভিড়। অকারণে অনেকেই ঘোরাঘুরি করছেন। সচেতনতার কোনও বালাই নেই।

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy