লকডাউনে আটকে পড়ে নৌকোতেই দিন কাটাচ্ছেন বছর পঞ্চান্নর এক প্রৌঢ়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঝড়খালির হেড়োভাঙা নদীর চরে নৌকোর মধ্যেই চলছে রমেশচন্দ্র মণ্ডল নামে ওই মৎস্যজীবীর দিন গুজরান।
কিন্তু কেন?
হাবড়ার বাসিন্দা রমেশ। কুড়ি বছর ধরে সুন্দরবনের জঙ্গলে মাছ-কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। অমাবস্যা ও পূর্ণিমার তিথিতে ঝড়খালিতে এসে এখানকার সঙ্গীদের সঙ্গে সুন্দরবনের নদী, খাঁড়িতে মাছ-কাঁকড়া ধরতে যান তিনি। এ বারও এসেছিলেন দিন পনেরো আগে। ইতিমধ্যে শুরু হয় লকডাউন। গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। ফলে ঝড়খালি থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটারের দূরে হাবড়ার বাড়িতে ফেরা হয়ে ওঠেনি তাঁর। করোনা-আতঙ্কের আবহে সঙ্গীরাও তাঁকে নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দিতে চাননি। অগত্যা নৌকোর মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন ওই মৎস্যজীবী। ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন রমেশ।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য, মানুষজন রমেশকে চাল, ডাল, আলু পৌঁছে দিয়েছেন। সেখানেই রান্নাবান্না করছেন তিনি। রমেশ বলেন, ‘‘লকডাউন ঘোষণার সময়ে আমরা জঙ্গলের মধ্যে ছিলাম। ছ’দিন বাদে যখন ফিরে আসি, তখন লকডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আর বাড়ি ফিরতে পারিনি। তাই নৌকোর মধ্যেই দিন কাটাচ্ছি।”
ঝড়খালি পঞ্চায়েতের সদস্য স্বপন বৈরাগী বলেন, “আমরা ওঁর পাশে আছি। যাতে কোনও রকম সমস্যা না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখছি।”
(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)