কোচি বন্দরে ইরানের জাহাজ আইআরআইএস লাভানকে নোঙর করার অনুমতি দিয়েছে নয়াদিল্লি। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ বার এই নিয়ে মুখ খুললেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি জানান, ইরানের জাহাজকে কোচি বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দিয়ে ভুল করেনি ভারত। মানবিক কারণে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতের এই সিদ্ধান্তের জন্য নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা আশা করি ভবিষ্যতে নয়াদিল্লি এবং তেহরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।’’
দিল্লিতে রাইসিনা সম্মেলন ২০২৬-এ বক্তৃতা করার সময় আইআরআইএস লাভান নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জয়শঙ্কর। সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, এ প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতিটি দেখেছি। আইনি সমস্যা বাদ দিয়ে বিষয়টি দেখা হয়েছে। আমি মনে করি, আমরা সঠিক কাজই করেছি।’’
কী ভাবে ইরানের ওই জাহাজ কারিগরি সমস্যার সম্মুখীন হয়ে ভারতীয় বন্দরে নোঙর করার অনুমতি চায়, তা ব্যাখ্যা করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ‘‘ভারত ইরানের পক্ষ থেকে একটি বার্তা পেয়েছিল। জানানো হয় ভারতীয় জলসীমানার সবচেয়ে কাছে ইরানের একটি জাহাজ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। ওই জাহাজটিকে ভারতীয় বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হোক। ১ মার্চ অনুমতি দেওয়া হয়। কয়েক দিন পর ওই জাহাজ কোচি বন্দরে পৌঁছোয়।’’ জয়শঙ্করের মতে, যখন জাহাজগুলি রওনা দেয় এবং এখানে এসে পৌঁছোয় তখন পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল।
আরও পড়ুন:
বুধবার ভোরে ভারত মহাসাগরের বুকে ইরানি রণতরী ‘ডেনা’-র উপরে হামলা চালায় মার্কিন ডুবোজাহাজ। টর্পেডো ছুড়ে ইরানের যুদ্ধজাহাজকে ধ্বংস করে দেয় তারা। ভারতীয় নৌবাহিনীর আমন্ত্রণে বিশাখাপত্তনমে একটি মহড়ায় অংশ নিতে নিরস্ত্র অবস্থায় গিয়েছিল ডেনা। তার কয়েক দিন আগে আরেকটি ইরানি রণতরীকে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কোচিতে নোঙর করার অনুমোদন দিয়েছিল ভারত। প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণেই ওই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।