Advertisement
E-Paper

গোলার দাপটে বাড়ছে অসুখ-বিসুখ

লাল, নীল, হলুদ, সবুজ— নানা রঙের সরবত। কোনওটা আবার রঙিন বরফের গোলা। শহর থেকে শহরতলি, স্টেশনে, বাজারে, পথ-ঘাটে এই গরমে মুহূর্তের আরামের নাম ‘ডবল গোলা’।

বিতান ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০১৭ ১৩:১৬
বিপদ: ব্যারাকপুরে —নিজস্ব চিত্র।

বিপদ: ব্যারাকপুরে —নিজস্ব চিত্র।

লাল, নীল, হলুদ, সবুজ— নানা রঙের সরবত। কোনওটা আবার রঙিন বরফের গোলা। শহর থেকে শহরতলি, স্টেশনে, বাজারে, পথ-ঘাটে এই গরমে মুহূর্তের আরামের নাম ‘ডবল গোলা’। স্বাদে মিষ্টি বরফগোলার ফ্লেভার হরেক— কোলা থেকে পুদিনার চাটনি। সেই অনুযায়ী নামও আলাদা, আর দামও।

খোলা রাস্তায় এই সরবতের চাহিদা প্রচুর। এর সঙ্গে আছে ম্যাঙ্গো জুস নামের একটি সরবত। সারি সারি আসল আম সাজানো থাকলেও সরবত তৈরি হয় আমের সুগন্ধি দিয়ে। তাতে দুধের সরের মতো আম পাতলা করে কেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। প্লাস্টিক বা কাচের গ্লাসে ১৭৫ মিলি সরবতের দাম দশ টাকা।

গরমের সঙ্গে বাড়তে থাকা আর্দ্রতায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাঁসফাঁস অবস্থা পথচলতি মানুষের। সঙ্গে থাকা জলের বোতলে থেকে দু’ঢোক গলায় ঢালার উপায় নেই। বরং বোতলে চা পাতা ফেলে দিলে ফুটে যেতে পারে সেই গরম জল। চোখের সামনে থাকা ডবল কোলা, ঠান্ডা সিরাপের ঠেলা গাড়ি বা কোনও কোলা কাউন্টার পেলে লোকজন রোদ মাথায় করে ভিড় বাড়াচ্ছেন সেখানেই। থামোর্কলের বাক্সে রাখা বরফের চাঙড়। কাপড়ের ব্যাগে ভরে ফুটপাথের ধারে শক্ত চাতালে বার কয়েক আছাড় মারার পরে বরফের টুকরোগুলো ওই ব্যাগ থেকে বের করে সরবতের গ্লাসে প্রয়োজন মতো ফেলে দিচ্ছেন বিক্রেতা। বরাহনগর থেকে বীজপুর— এই ঠান্ডা সরবত এখন লাভের মুখ দেখাচ্ছে সরবত বিক্রেতাদের।

ব্যারাকপুর স্টেশনের কাছে সনু সাউয়ের সরবতের দোকান। বরফ কেনেন মোহনপুরের বরফ ফ্যাক্টরি থেকে। ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল বরফ দামেও সস্তা। সরবতের কেমিক্যাল সিরাপ আনেন বড়বাজার থেকে পাইকারি দরে। ‘‘গ্লাস প্রতি গড়ে চার-পাঁচ টাকা করে লাভ থাকে’’, সনু নিজেই বললেন। শিল্পাঞ্চলের পঞ্চায়েত এলাকা বা কুলি লাইনগুলোর কাছে চার চাকার ছোট ঠেলা গাড়িতেই চালু সরবতের দোকান। শিশু থেকে বৃদ্ধ গরমের তীব্রতায় মজছেন এক গ্লাস ঠান্ডা সরবতে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই সরবত কতটা নিরাপদ তা নিয়েই। প্রবীণ চিকিৎসক বিজনবিহারী রথ বা জওহরলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘জেনেশুনে বা না জেনে সকলেই বিষ পান করছেন রাস্তার ধারের এই সরবত খেয়ে। গ্লাস থেকে বরফ সবটাই তো অস্বাস্থ্যকর। কেউ দায়ে পড়ে, কেউ বা আবার মোহে পড়ে খাচ্ছেন। এর থেকে এক বোতল জল কিনে খাওয়া অনেক ভাল।’’ কল্যাণী জওহরলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজের সুপার সুবিকাশ বিশ্বাস বলেন, ‘‘কাচের গ্লাস হলে একই গ্লাস একই গামলার জলে বারবার ধুয়ে ব্যবহার করা হয়। আর প্লাস্টিকের গ্লাস কতটা স্বাস্থ্যকর, তা নিয়ে তো প্রশ্ন থাকেই। সবচেয়ে বড় কথা, এই বরফ আর সিরাপের মিশ্রণ সব জায়গায় গুণমান মেনে বিক্রি হয় না।’’ ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল বরফ সাধারণত পচন রোধে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সে সবের তোয়াক্কা কি আর এই গরমে কেউ করে!

Diseases ice gola
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy