Advertisement
E-Paper

হাসনাবাদে লগ্নি সংস্থার এজেন্টের বাবা আত্মঘাতী

অর্থলগ্নি সংস্থায় এজেন্টের কাজ নিয়েছিল ছেলে। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরে বৃদ্ধ বাবাও সেই কাজে সাহায্য করতেন ছেলেকে। কিছু কিছু টাকাও তুলেছিলেন গ্রাহকদের কাছ থেকে। নিজেও অবসরের পরে পাওয়া টাকার বেশ খানিকটা অংশ জমা রেখেছিলেন ওই লগ্নিসংস্থায়। কিন্তু আইকোর নামে অর্থলগ্নি সংস্থাটির বিভিন্ন অফিসে ইতিমধ্যেই তালা ঝুলেছে। টাকা ফেরত চেয়ে বাড়িতে ঝামেলা শুরু করেছিল গ্রাহকেরা। সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে কিছু দিন ধরেই অবসাদে ভুগছিলেন হাসনাবাদের টাকি পুরসভার বাঘপাড়ার বাসিন্দা কার্তিক দাস (৬২)।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০১৫ ০২:৪৭
কার্তিক দাস

কার্তিক দাস

অর্থলগ্নি সংস্থায় এজেন্টের কাজ নিয়েছিল ছেলে। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরে বৃদ্ধ বাবাও সেই কাজে সাহায্য করতেন ছেলেকে। কিছু কিছু টাকাও তুলেছিলেন গ্রাহকদের কাছ থেকে। নিজেও অবসরের পরে পাওয়া টাকার বেশ খানিকটা অংশ জমা রেখেছিলেন ওই লগ্নিসংস্থায়। কিন্তু আইকোর নামে অর্থলগ্নি সংস্থাটির বিভিন্ন অফিসে ইতিমধ্যেই তালা ঝুলেছে। টাকা ফেরত চেয়ে বাড়িতে ঝামেলা শুরু করেছিল গ্রাহকেরা। সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে কিছু দিন ধরেই অবসাদে ভুগছিলেন হাসনাবাদের টাকি পুরসভার বাঘপাড়ার বাসিন্দা কার্তিক দাস (৬২)। সোমবার সকালে ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। পরিবারের লোকের দাবি, পাওনাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত অপমানিত হতে হচ্ছিল কার্তিকবাবু ও তাঁর ছেলে সুব্রতকে। সেই চাপেই আত্মঘাতী হয়েছেন ওই বৃদ্ধ।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে এ দিনই এলাকার লোকজন অন্য একটি অর্থলগ্নি সংস্থা রোজভ্যালির টাকির বন্ধ অফিসে ভাঙচুর, লুঠপাট চালায়। পুলিশ আসে। কার্তিকবাবুর দেহ বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ময়না-তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে তাদেরও অনুমান, গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে না পেরে মানসিক চাপেই আত্মঘাতী হয়েছেন ওই বৃদ্ধ।

অন্য দিকে, রোজভ্যালির বারাসত অফিসের এক কর্মীও এ দিন আত্মঘাতী হয়েছেন। পুলিশ জানায়, পিনাকী মুখোপাধ্যায় (৩৯) নামে ওই যুবকের বাড়ি মধ্যমগ্রামের বিবেকনগরে। ৪ এপ্রিল অ্যাসিড খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। ভর্তি করা হয় আরজিকর হাসপাতালে। সোমবার রাতে সেখানেই মারা যান পিনাকী। এই ঘটনায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি থানায়। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Advertisement

বন্ধ অর্থলগ্নি সংস্থার এজেন্টদের উপরে টাকা ফেরতের চাপ এখনও কমেনি গ্রাহকদের তরফে। ইতিমধ্যেই আত্মঘাতী হয়েছেন এজেন্টদের কেউ কেউ। পাওনাদারদের চাপে বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে। অর্থলগ্নি সংস্থায় টাকা রেখে সর্বস্ব খুইয়ে বা এজেন্ট হয়ে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে না পেরে বসিরহাট মহকুমায় ইতিমধ্যেই আত্মঘাতী হয়েছেন এক দম্পতি-সহ ৭ জন। গোটা রাজ্যের তালিকাটা আরও বড়।

টাকির বাসিন্দা কার্তিকবাবু মহাকরণে অর্থ দফতর থেকে বছর দু’য়েক আগে অবসর নিয়েছিলেন। তাঁর বড় ছেলে সুব্রত আইকোর-এর বসিরহাট শাখার এজেন্ট ছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছিলাম। লগ্নিসংস্থাটি বন্ধ হওয়ায় সেই টাকা ফেরতের জন্য নানা ভাবে চাপ দিচ্ছিলেন গ্রাহকেরা। অপমানজনক কথাবার্তা তো আছেই, হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। সজ্জন মানুষ হিসাবে বাবার এলাকায় পরিচিতি ছিল। আমার জন্য ওঁকেও অপমানিত হতে হচ্ছিল।’’

chitfund agent committed suicide rose valley agent kartik das pinaki mukhopadhyay chitfund case
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy