নরেন্দ্রপুরে নিজের ফ্ল্যাটে বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপানের আসর বসিয়েছিলেন অরূপ মণ্ডল। সেখানেই বচসা, গন্ডগোলে তাঁকে গুলি করা হয়। খুনের তদন্তে নেমে এমনই তথ্য পেল পুলিশ।
ধৃত প্রিয়াঙ্কা দাস এবং রাজু দাসের দাবি, তাঁরা কেউই ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। রাতে অরূপের ফ্ল্যাটে গিয়ে তাঁকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। প্রিয়াঙ্কা এ-ও দাবি করেন, ‘প্রিয় বন্ধু’ অরূপের কাছ থেকে তিনি প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকা পেতেন। কেন ওই পরিমাণ অর্থ অরূপ নিয়েছিলেন, বা আদৌ নিয়েছিলেন কি না, তা পরিষ্কার নয়। তা ছাড়া প্রিয়াঙ্কা যদি টাকা দিয়েও থাকেন, ওই অর্থের উৎস কী, তা নিয়েও তথ্য মেলেনি।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, বুলেটের আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে অরূপের। কিন্তু কে গুলি চালিয়েছিলেন? প্রিয়াঙ্কার দাবি, রবিবার রাতে সাত-আট জন পরিচিত অরূপের ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন। তিনি এবং রাজু ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে গুলি করা হয়েছিল অরূপকে। অন্য দিকে, পুলিশ সূত্রে খবর, বছর তিনেক আগে প্রিয়াঙ্কার স্বামীর মৃত্যু হয়। ওই যুবক সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
এখন শাশুড়ি এবং মেয়ের সঙ্গে থাকেন প্রিয়াঙ্কা। অরূপের সঙ্গে তাঁর আলাপ-পরিচয় হয় একটি জমি বিক্রির সূত্রে। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। রাজু প্রিয়াঙ্কার তুতো ভাই। পেশায় অটোচালক যুবককে রবিবার প্রিয়াঙ্কা ডেকে নিয়ে অরূপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে ঠিক কী কী ঘটেছিল, পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তা জানার চেষ্টা চলছে।
তবে মঙ্গলবার আদালতে যাওয়ার পথে পুলিশের গাড়িতে বসে ধৃত প্রিয়াঙ্কা এবং রাজু, দু’জনেই দাবি করেছেন, তাঁরা কেউ গুলি চালাননি। তাঁদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়েছে। ধৃতদের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ।
ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র, বেশ কিছু নগদ টাকা এবং কয়েকটি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।