Advertisement
E-Paper

প্রস্রাবের সমস্যা নেই, তা-ও বিকল হতে পারে কিডনি, বোঝা যায় না লক্ষণও, সতর্ক থাকার উপায় কী

কিডনির রোগ অজান্তে শরীরে বাসা বাঁধছে কি না, তা বোঝার উপায় নেই। অনেক সময়ে লক্ষণ আগে থেকে চেনাও যায় না। রোগ যখন ধরা পড়ে, তখন হয়তো কিডনির প্রায় ৯৫ শতাংশ বিকল হয়ে গিয়েছে। তা হলে আগে থেকে সতর্ক হবেন কী ভাবে?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ১৩:৫৫
Kidney Damage before you feels it, doctors Share some golden rules for survival

লক্ষণ ধরা পড়ে না, তাও বিকল হতে পারে কিডনি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কিডনির রোগ আসে অজান্তেই। প্রস্রাবের সমস্যা বা ঘন ঘন মূত্রনালির সংক্রমণ মানেই যে কিডনির রোগ হচ্ছে, তা না-ও হতে পারে। কিডনির রোগ নিয়ে এত আলোচনা কেন হচ্ছে, তারও কিছু কারণ আছে। এমনও দেখা গিয়েছে যে দিব্যি সুস্থ-সবল মানুষ, প্রস্রাবের কোনও সমস্যা নেই, তার পরেও কিডনি বিকল হতে শুরু করেছে। এবং লক্ষণ ফুটে ওঠার আগেই কিডনির প্রায় ৯৫ শতাংশ বিকল হয়ে গিয়েছে। তাই কিডনির অসুখ বিপজ্জনক। একবার ধরা পড়লে ডায়ালিসিস করাতে করাতেই শরীরের প্রতিরোধ শক্তি ভেঙে পড়ে। না হলে প্রতিস্থাপন করার প্রয়োজন হয়। সে কারণে আগে থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি।

কিডনির রোগের ক্ষেত্রে যে হেতু উপসর্গ সবসময়ে বোঝা যায় না, তাই আগে কী ভাবে সতর্ক হতে হবে সে নিয়েই আলোচনা বেশি হয়। দেশের ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশিকা রয়েছে বিষয়টি নিয়ে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, কিডনি ভাল রাখতে যেমন জীবনযাপনে নিয়ম মানা জরুরি, তেমনই কিছু পরীক্ষাও করিয়ে নিতে হবে সময় মতো।

কাঁচা নুন কম

কাঁচা নুন কম খাওয়াই ভাল। বেশি ঝাল-মশলা দেওয়া খাবার বা অতিরিক্ত নুন আছে এমন খাবার কম খাবেন। এই বিষয়ে মেডিসিনের চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার জানিয়েছেন, কিডনির রোগীদের খাদ্যতালিকা বানাতে হবে কিছু নির্দিষ্ট খাবার দিয়ে। শরীরে টক্সিন ও বর্জ্য কম তৈরি করে, এমন খাবার বাছতে হবে। বেদানা, কালো আঙুর, অলিভ অয়েল, বাঁধাকপি, ডিমের সাদা অংশ খাওয়া যেতে পারে। ভাত বা রুটির বদলে ডালিয়া, কিনোয়া, গ্লুটেন-মুক্ত শস্য খেতে পারেন। প্রোটিনজাতীয় খাবার যে একেবারে খাওয়া যাবে না, তা নয়। তবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে খেতে হবে। হার্টের রোগ বা ডায়াবিটিস থাকলে খাবার মেপে খেতে হবে।

প্রোটিন বুঝেশুনে

দিনে মাছ কিংবা মাংস খেলে রাতে আর কোনও প্রোটিন খাওয়া যাবে না। ডাল, দুধ, পনিরও বেশি না খাওয়াই ভাল। পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। যাঁদের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ওঠাপড়া বেশি হয়, তাঁদের সাবধান না হলে কিডনির রোগের পাশাপাশি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।

ব্লাড ইউরিয়া নাইট্রোজেন টেস্ট

এটি একটি রক্তপরীক্ষা। রক্তে ইউরিয়া নাইট্রোজেনের মাত্রা পরিমাপ করা হয় এই টেস্টে। ইউরিয়া নাইট্রোজেন হল প্রোটিনের বিপাকের ফলে তৈরি হওয়া একটি বর্জ্য পদার্থ। সুস্থ কিডনি এটি রক্ত থেকে অপসারণ করে এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বার করে দেয়। এর মাত্রা যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, তা হলে কিডনির রোগের লক্ষণ ইঙ্গিত করে। এই পরীক্ষা করাতে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ পড়ে।

কিডনি আল্ট্রাসনোগ্রাফি

ডায়াবিটিস বা হার্টের রোগ রয়েছে অথবা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে এই পরীক্ষাটি করিয়ে নিতেই হবে। পরীক্ষাটিকে রেনাল আলট্রাসাউন্ড বলা হয়। শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে কিডনির অবস্থা কেমন, তা দেখা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির আকার, আকৃতি এবং অবস্থান দেখা যায়। পরীক্ষাটি করলে বোঝা যায় কিডনিতে পাথর, সিস্ট বা টিউমার আছে কি না। খরচ ল্যাবরেটরি ভেদে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা অবধি হতে পারে।

Kidney Disease kidney health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy