মকর সংক্রান্তির সকালে লক্ষ-লক্ষ মানুষের পুণ্যস্নানের আকাশ থেকে তোলা ছবি!
ধর্মতলা থেকে সাগরদ্বীপ— পথ নির্দেশের সুবিধার্থে বসানো অসংখ্য ব্যানার, হোর্ডিংয়ে ঘুরে ফিরে এসেছে এই ছবি। সঙ্গে গঙ্গাসাগর মেলাকে ঘিরে সরকারি ব্যবস্থাপনার নানা খুঁটিনাটি তথ্য। মেলা প্রাঙ্গণে বাসস্ট্যান্ড, অস্থায়ী হাসপাতাল, হারিয়ে যাওয়া পুণ্যার্থীদের খোঁজ কোথায় করতে হবে, তা জানাতে উড়ছে আলো বসানো বেলুন। সঙ্গে নানা পরিষেবার ঘোষণা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেওয়া হোর্ডিংয়ে লেখা, ‘লক্ষ মানুষ, লক্ষ্য এক’। ইতিমধ্যে স্নান সেরে ফেলা পুণ্যার্থীদের মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি নিজেদের ছবি সম্বলিত ‘বন্ধন’ নামের শংসাপত্রও দিচ্ছে সরকার।
এক ঝলকে দেখলে মনে হবে, যেন কুম্ভ মেলার প্রচার। অনেকেই মনে করছেন, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের বছরে গঙ্গাসাগর মেলাকে আয়োজনের নৈপুণ্যে কুম্ভ মেলা করে তুলতে মরিয়া প্রশাসন!
মেলায় পুণ্যার্থীদের আসার ব্যবস্থা মসৃণ করতে মুড়িগঙ্গায় ড্রেজ়িং করে চারটি নৌ-পথ তৈরি করেছে প্রশাসন। পথে পুণ্যার্থীদের বিভিন্ন জায়গায় বিশ্রামের ব্যবস্থাও হয়েছে। নদী পেরোনোর জন্য ভেসেল এবং লঞ্চের সংখ্যাও বাড়িয়েছে প্রশাসন। সাগরদ্বীপে হাজার খানেক গাড়ি এবং তিনশো বাস পুণ্যার্থীদের নদীর বিভিন্ন ঘাট থেকে মেলা প্রাঙ্গণে নিয়ে আসছে। মেলার কন্ট্রোল রুমে প্রায় ১১০০ সিসি ক্যামেরার ছবির জন্য বসানো অসংখ্য মনিটরের মাঝে স্টেডিয়ামের মতো সুবিশাল স্ক্রিনে ঝলমল করছে ড্রোন ক্যামেরায় আকাশ থেকে তোলা মেলা প্রাঙ্গণের ছবি। মেলার কোথায় কী আছে, তা জানাতে বিভিন্ন জায়গায় খোলা হয়েছে ‘টাচ স্ক্রিন’ যুক্ত ই-কিয়স্ক। ‘কিউআর কোড’ স্ক্যান করে জানা যাচ্ছে নানা তথ্য। বয়স্ক এবং শিশুদের হারিয়ে যাওয়া ঠেকাতে ‘কিউআর কোড’ যুক্ত বিশেষ রিস্টব্যান্ড চালু করেছে প্রশাসন।
মেলা চত্বর এবং আসার পথ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার অস্থায়ী শৌচাগার তৈরি করা হয়েছে বলে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের মন্ত্রী পুলক রায় সোমবার জানিয়েছেন। সেচ, দমকল, পূর্ত, জনস্বাস্থ্য, পরিবহণ-সহ নানা দফতরের কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে তৎপর ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। একসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে দেখা গিয়েছে মানস ভুঁইয়া, সুজিত বসু, পুলক রায়, অরূপ বিশ্বাস, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, বেচারাম মান্না, বঙ্কিম হাজরাদের। অরূপ জানিয়েছেন যে, ১ জানুয়ারি থেকে এ দিন বিকেল ৩টে পর্যন্ত মেলায় ৪৫ লক্ষ পুণ্যার্থী এসেছেন।
মেলাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের বঞ্চনার খোঁচাও উঠে এসেছে। গঙ্গাসাগর মেলা কেন জাতীয় মেলার স্বীকৃতি পাবে না, এ দিন বার বার সেই প্রশ্ন তুলতে দেখা গিয়েছে রাজ্যের মন্ত্রীদের। সাগরদ্বীপকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে চলতি ভোটের বছরে মুখ্যমন্ত্রীর সেতু নির্মাণের ঘোষণা ও শিলান্যাস বিষয়টিতে বাড়তি মাত্রাও দিয়েছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা খরচ হবে।
কারও কারও টিপ্পনী, নতুন সেতু কি শুধুই উন্নয়ন? না কি ভোট বৈতরণী পারের পথ?
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)