লোকসভা ভোটে বনগাঁ কেন্দ্রে তৃণমূলের ভরাডুবির পরে আজ, মঙ্গলবার প্রথম বনগাঁ মহকুমায় সভা করতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষবার সভা করেছিলেন গত বছর। দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে লোকসভার ভোটের প্রচারে এসেছিলেন বাগদার হেলেঞ্চায়।
আজ সভা হবে বনগাঁ স্টেডিয়ামে। যাকে সামনে রেখে পুরসভা ভোটের আগে ঘুরে দাঁড়াতে ঘর গোছাতে চাইছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
তৃণমূলের খাসতালুক হিসাবে পরিচিত বনগাঁয় লোকসভায় লক্ষাধিক ভোটে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর। মতুয়া ভক্তদের একটা বড় অংশের সমর্থন পেয়েছিল বিজেপি। সামনেই পুর ভোট। লোকসভা ভোটে বনগাঁ পুরসভার ২২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২১টিতে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর সভাকে কেন্দ্র করে জোরদার প্রচার কর্মসূচি পালন করেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। বুথে বুথে কর্মিসভা, পথসভা করা হয়েছে। এনআরসি এবং নয়া নাগরিকত্ব আইন কেন বাতিলের দাবি তুলছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে তা বোঝানো হচ্ছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বনগাঁয় এসে দলীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেছেন।
লোকসভা ভোটের পরে তৃণমূলের অন্দরে ভরাডুবির পিছনে কয়েকটি কারণকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তা ছিল, নেতা-কর্মীদের একাংশের জনবিচ্ছিন্নতা এবং দাম্ভিকতা। মুখ্যমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতিতে নেতা-কর্মী-জনপ্রতিনিধিরা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন। জনসংযোগকে চাঙ্গা করাই যার উদ্দেশ্যে বলে দলের একটি সূত্রের খবর।
জ্যোতিপ্রিয় বলেন, ‘‘বনগাঁ লোকসভার কেন্দ্রের অন্তর্গত পাঁচটি বিধানসভা, বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা, বাগদা এবং স্বরূপনগর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় লোকজন নিয়ে আসা হবে। জেলার অন্য এলাকা থেকে নেতা জনপ্রতিনিধিরা আসতে পারেন। তবে তাঁদের বলে দেওয়া হয়েছে, সঙ্গে লোকজন না আনতে। কারণ এর মাধ্যমে আমরা আমাদের শক্তি যাচাই করে নিতে চাইছি।’’
সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মতুয়া ভক্তদের বেশি সংখ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সভায় হাজির করানোর পরিকল্পনা করেছেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের সভায় আসার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে দলের তরফে। দলীয় সূত্রের খবর, জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী এনআরসি ও নতুন নাগরিক আইনের বিরোধিতা করে কড়া প্রতিক্রিয়া দেবেন। বনগাঁ মহকুমায় প্রচুর উদ্বাস্তু ও মতুয়া ভক্তদের বসবাস। এখানকার যে কোনও ভোটে মতুয়ারা নির্ণায়ক ভূমিকা নিয়ে থাকেন। লোকসভা ভোটে তাঁদের সমর্থন বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। এখন এনআরসি ও নাগরিক আইন নিয়ে মতুয়াদের বড় অংশ বিভ্রান্ত। ওই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের মতুয়াদের পাশে থাকার বার্তা দেবেন বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।
মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টারে আসছেন। বনগাঁ স্টেডিয়ামের পাশের মাঠে হেলিপ্যাড তৈরি হয়েছে। সোমবার হেলিকপ্টার এসে সেখানে মহড়া দিয়ে দিয়েছে। রাজ্য পুলিশের কর্তারা দফায় দফায় সভাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন। গোটা বনগাঁ শহরের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে শহরটাই নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। পথে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে জন্য যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের তরফে পদক্ষেপ
করা হয়েছে। — নিজস্ব চিত্র