Advertisement
E-Paper

বারুইপুরের ঘটনায় গ্রেফতার এক! ধৃতের সঙ্গে কিশোরীকে দেখা যায় নিখোঁজ হওয়ার আগে, থানায় খুনের মামলা রুজু

ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে ছয় সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে। দলে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, বারুইপুর থানার আইসি-র মতো আধিকারিকেরা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ১৯:২৫

— প্রতীকী চিত্র।

বারুইপুরে পুকুর থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। রবিবার সকালেই তাঁকে আটক করা হয়েছিল। পরে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, শনিবার বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার আগে ধৃতের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল তাকে। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে জেরা করছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। নিহতের পরিবার ধর্ষণের অভিযোগ তুললেও সেই সংক্রান্ত মামলা রুজু হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে বাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অন্য দিকে, এই ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে।

বিধায়ক কুণাল ঘোষ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন, নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারুইপুরে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে ‘আটকাতে’ তাঁর বাড়ির সামনে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবারও তা থাকবে বলে দাবি কুণালের।

কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, ১২ বছরের ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ওই ঘটনার পরে সন্দেহভাজন মনে করে এক যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে। কিশোরীর বাবাকে ফোন করে ওই ঘটনায় সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার কিশোরীর বাবাকে ভবানীভবনেও যেতে বলেছেন। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে ছয় সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে। দলে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, বারুইপুর থানার আইসি-র মতো আধিকারিকেরা।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কিশোরী শনিবার বিকেলে খাবার কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। তার পর থেকে তার খোঁজ মেলেনি। পরিবারের অভিযোগ, চার জন তাকে তুলে নিয়ে যায়। রবিবার সকালে বাড়ির অদূরে একটি পুকুরে কিশোরীর দেহ মেলে। তার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। দেহ ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়েরা। পথ অবরোধ করেন। সূর্যপুর স্টেশনেও অবরোধ হয়। তার জেরে নামখানা-শিয়ালদহ লাইনে ঘণ্টাখানেক বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল।

বিক্ষোভ চলাকালীন স্থানীয় এক যুবককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। এলাকার মানুষজনের একাংশের অভিযোগ, নিহতকে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল। তিনিও সন্দেহভাজন বলে দাবি কারও কারও। এই অবস্থায় ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। মোতায়েন হয় বিশাল বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক জন পুলিশকর্মী আক্রান্ত হন বলেও অভিযোগ। শেষপর্যন্ত পুলিশ কিশোরীর দেহ উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। আইজি কঙ্করপ্রসাদ বাড়ুই (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) বলেন, ‘‘আমি উদ্যোগী হয়ে আজই মৃতার ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করব।’’

কঙ্করপ্রসাদ আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘এই ঘটনার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, সকলকে গ্রেফতার করা হবে। ফাঁসির সাজা যাতে দেওয়া হয়, সেই চেষ্টা করব। একটু আগে মুখ্যমন্ত্রী ফোন করেছিলেন। কথা দিয়েছেন, এই মামলার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না। যা ব্যবস্থা গ্রহণ করার, করব। সব ধরনের সাহায্য করতে বদ্ধপরিকর।’’

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy