ভাঙড়ের প্রতিটি বুথে থাকবে দু’টি করে ব্যালট ইউনিট। এর ফলে ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
সাধারণত, ইভিএম মেশিনের সঙ্গে থাকে একটি ব্যালট ইউনিট, একটি কন্ট্রোল ইউনিট এবং ভিপি প্যাট। ভোট দেওয়ার আগে প্রিজ়াইডিং অফিসার কন্ট্রোল ইউনিট থেকে ব্যালট দেওয়ার পরে ভোটাররা ঘেরা জায়গার মধ্যে ঢুকে ব্যালট ইউনিটের বোতাম টিপে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। তাঁর ভোট ঠিক হয়েছে কিনা, তিনি ভিপি প্যাটের মাধ্যমে জানতে পারেন।
এবার ভাঙড়ে প্রতিটি বুথের ভিতরে ঘেরা জায়গার মধ্যে থাকবে দু’টি করে ব্যালট ইউনিট (অর্থাৎ, ভোটাররা দুটি ব্যালট ইউনিটের মধ্যে থেকে তাঁদের পছন্দের একজন প্রার্থীকে ভোট দেবেন) মেশিন। সাধারণত, বুথের ভিতরে ঘেরা জায়গার মধ্যে একটি করে ব্যালট ইউনিট থাকে। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হচ্ছে, কারণ একটি ব্যালট ইউনিটের মোট ১৬ জন প্রার্থীর নাম সর্বাধিক থাকে। এবার ভাঙড়ে তৃণমূল, আইএসএফ, কংগ্রেস, বিজেপি, আমজনতা উন্নয়ন পার্টি, এসইউসিআই পার্টির প্রার্থী-সহ ১২ জন নির্দল প্রার্থী রয়েছেন। নির্দল প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে আবার আইএসএফ ও তৃণমূল সমর্থিত। প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সাধারণত বিপক্ষ দলের ভোট কাটাকুটির জন্যও নির্দল প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, বুথের ভিতরে তাঁদের বেশি সংখ্যক এজেন্ট ঢোকানোর জন্য অনেকে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তি নিজের ভোটের ডিউটি কাটানোর জন্য নির্দল প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়ে যান।
যেহেতু এবার ভাঙড়ে ১৯ জন প্রার্থী এবং নোটা ধরে ২০টি বোতাম, তাই একটি ব্যালট ইউনিটে ১৬ জন প্রার্থীর নাম থাকবে এবং অন্য একটি ব্যালট ইউনিটে নোটা ধরে ৪ জনের নাম থাকবে। সাধারণত, ব্যালট ইউনিটে প্রার্থীর নাম, ছবি এবং দলীয় প্রতীক থাকে। আর এই নিয়েই সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূল প্রার্থী সওকাত মোল্লার নাম ব্যালট ইউনিটের ৪ নম্বরে রয়েছে। তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ, নওসাদ সিদ্দিকীর নাম রয়েছে ঠিক পরে, ৫ নম্বরে। আবার বিজেপি প্রার্থী জয়ন্ত গায়েনের নাম রয়েছে ১ নম্বরে। এ ক্ষেত্রে, দু’টি ব্যালট ইউনিটের মধ্যে ভোটাররা কোন বোতাম টিপবেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তির আশঙ্কা করছে সব রাজনৈতিক দল। ভাঙড়ে এবার এসআইআর-এর তালিকা প্রকাশের পরে ভোটার ২ লক্ষ ৭২ হাজার ৭১১ জন। ৩০৪টি (সহায়ক বুথ-সহ) বুথ রয়েছে।
এ বিষয়ে সওকাত বলেন, ‘‘এটা ঠিকই, একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। মানুষ যাতে বিভ্রান্ত না হন, সে র জন্য আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেমো দেখিয়ে আমার ছবি ও দলীয় প্রতীক দেখিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য মানুষকে বোঝাচ্ছি।’’
নওসাদের কথায়, ‘‘আমার নাম ব্যালট ইউনিটের ৫ নম্বরে রয়েছে। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ইউনিটে ৫ নম্বর নাম না থাকায় সুবিধা হয়েছে। তারপরেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে দলীয় কর্মীরা মানুষকে বোঝাচ্ছেন।’’
বিজেপি প্রার্থী জয়ন্ত গায়েনের প্রতিক্রিয়া, ‘‘এটা ঠিক যে মানুষ বুথের ভিতরে ঢুকে কোন ব্যালট ইউনিটের এক নম্বর বোতাম টিপবেন, তা নিয়ে বিভ্রান্ত হতেই পারেন। সমস্যা তো হচ্ছেই। সে জন্য আমরা বিভিন্ন মিটিং থেকে এবং বাড়িতে গিয়ে মানুষকে পদ্মফুলের প্রতীক দেখিয়ে ভোট দেওয়ার কথা বলছি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)