E-Paper

মুড়িগঙ্গায় ডুবল ছাই বোঝাই বার্জ, বাড়ছে দূষণের আশঙ্কা

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৫
ডুবন্ত বার্জ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে নাবিকদের।

ডুবন্ত বার্জ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে নাবিকদের। ছবি: সমরেশ মণ্ডল।

যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে গেল একটি বাংলাদেশি পণ্যবাহী বার্জ। বুধবার বিকেলে কচুবেড়িয়া সংলগ্ন মুড়িগঙ্গা নদীর মাঝ বরাবর এই দুর্ঘটনা ঘটে। বার্জে থাকা ১২ জনকেই উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ডুবে যাওয়া বার্জে থাকা ছাই জলে মিশে পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা পরিবেশবিদদের।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা বন্দর থেকে পণ্য (ফ্লাই অ্যাশ) নিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছিল ‘এমভি তামজিদ অ্যান্ড নাসির’ নামে ওই বার্জটি। ঘোড়ামারা দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছতেই বার্জটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর প্রবল স্রোতের মুখে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বার্জের নীচের অংশে ফাটল ধরে। হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করে। কাছাকাছি থাকা মৎস্যজীবীরা নৌকা নিয়ে বার্জের কাছাকাছি পৌঁছন। সাগর থানায়ও খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৎস্যজীবীদের সহযোগিতায় উদ্ধারকাজ শুরু করে। বার্জে থাকা ১২ জনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি ও এক জন ভারতীয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

এ দিকে বার্জটি ডুবে যাওয়ায়, বার্জে থাকা ফ্লাই অ্যাশ নদীর জলে মিশতে শুরু করেছে। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের দাবি, নদীর জলে ছাই মিশলে মাছ মারা যেতে পারে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নদীর বাস্তুতন্ত্র।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে বার্জের ভারতীয় এজেন্টকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।

উল্লেখ্য, মুড়িগঙ্গা ও সংলগ্ন নদীতে এই ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোড়ামারা দ্বীপের কাছে মুড়িগঙ্গা নদীতে এবং গত জুলাই মাসে নামখানার নারায়ণপুর নাদাভাঙা নদীর কাছে ছাই বোঝাই বাংলাদেশি বার্জ ডুবে গিয়েছিল। ২০১৩ সালে মুড়িগঙ্গায় ডুবে যাওয়া একটি বাংলাদেশি জাহাজের উপর পলি জমে তৈরি হয়ে গিয়েছে আস্ত চর, যার জেরে মাঝেমধ্যেই জলযান চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়।

পরিবেশবিদ বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, “২০০৫ সালের পর থেকে একের পর এক এই ধরনের দুর্ঘটনায় মুড়িগঙ্গার নাব্যতা ক্রমশ কমছে। ১৯৭৪ সালের জলদূষণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও আন্তর্জাতিক জলপথ হওয়ায় কার্যত কোনও কঠোর পদক্ষেপ হচ্ছে না। দ্রুত জাহাজ উদ্ধার ও ফ্লাই অ্যাশ অপসারণ না হলে মুড়িগঙ্গার পরিবেশ ও নদীনির্ভর মানুষের জীবনযাত্রা বড় বিপদের মুখে পড়তে পারে।”

সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার কোটেশ্বর রাও নালাভাট বলেন, “ঘোড়ামারা দ্বীপ ও কচুবেড়িয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় পৌঁছনোর সময় হঠাৎই জাহাজটির ইঞ্জিনে গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে ডুবন্ত জাহাজ থেকে সকল নাবিককে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Sagar Island

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy