মরসুম বদলের সময় ঘরে ঘরে বাড়ছে সর্দি-কাশি-গলাব্যথার প্রকোপ। গলাব্যথা হলেই অ্যাজিথ্রোমাইসিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা অনেকেরই রয়েছে। তবে গলাব্যথার ক্ষেত্রে এই ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আদৌ কোনও কাজ করে না।
চিকিৎসকদের মতে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শ্বাসনালিতে সংক্রমণ হয় ভাইরাসের হানায়। তাই সেই সব ক্ষেত্রে অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক মোটেও কাজ করবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের খেয়াল-খুশিতে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে উল্টে পেটের ভিতরে থাকা উপকারী ব্যাক্টেরিয়াগুলি নষ্ট হতে শুরু করে। ফলে আইবিএসের (ইরিটেব্ল বাওয়েল সিন্ড্রোম) ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসক শুভম বাৎসের মতে, ‘‘ সামান্য গলাব্যথা হলেই অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলেন অনেকে। এতে কোনও লাভ হয় না, উল্টে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। সাধারণত ভাইরাল সংক্রমণের ক্ষেত্রে ওষুধের থেকেও যত্নের বেশি প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে চটজলদি সমস্যার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার দাওয়াই হিসাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করাই ভাল। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে।’’
গলাব্যথা হলে কী করবেন?
চিকিৎসকের মতে, গলাব্যথা হলে সবার আগে ভাপ নিতে হবে। সবচেয়ে ভাল হয় দিনে একাধিক বার গার্গেল করলে। রোজের ডায়েটে প্রোবায়োটিক রাখলেও উপকার পাবেন। তবে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে গলাব্যথা সারানোর কড়া ওষুধ চাইবেন না। শুভম বলেন, ‘‘কড়া ওষুধেই ভাল কাজ হবে এমন কোনও মানে নেই। তার থেকে গলাব্যথা হলে শরীরের একটু যত্ন নিলেই দ্রুত সেরে উঠতে পারবেন।’’