পশ্চিমবঙ্গ ছাড়লেন বিদায়ী রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। একই দিনে রাজ্যে এলেন নতুন রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবিও। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হল প্রস্থান এবং আগমন। বৃহস্পতিবার লোকভবন (সাবেক রাজভবন)-এ শপথগ্রহণ করবেন রবি।
রাজ্যপাল পদে আচমকা ইস্তফা দেওয়ার পরে গত রবিবার কলকাতায় আসেন আনন্দ বোস। এই ক’দিন কলকাতাতেই ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দেখা করতে যান তাঁর সঙ্গে। বিদায়ী রাজ্যপালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ সারেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পরে বুধবার দুপুরের বিমানে কলকাতা থেকে নিজ রাজ্য কেরলের উদ্দেশে রওনা দেন আনন্দ বোস। রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে বিদায় জানানোর জন্য উপস্থিত ছিলেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। আনন্দ বোসের হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দেন তিনি।
আনন্দ বোস কলকাতা ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই শহরে এসে পৌঁছোন নতুন রাজ্যপাল রবি। সন্ধ্যায় বিমানে দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছোন তিনি। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তিনি রওনা দেন লোকভবনের উদ্দেশে। বৃহস্পতিবার সকালে সাড়ে ১১টায় তাঁর শপথগ্রহণ সমারোহ রয়েছে লোকভবনে। রাজ্যপালের এই শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন থেকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও। নতুন রাজ্যপালের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
আরও পড়ুন:
আনন্দ বোসের ইস্তফার পরে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী রাজ্যপাল হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয় রবিকে। এত দিন তিনি ছিলেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল। তামিলনাড়ুর সাংবিধানিক প্রধান থাকাকালীন ডিএমকে সরকারের সঙ্গে বারবার সংঘাতে জড়িয়েছেন রবি। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন বিল ঘিরে এমকে স্ট্যালিনের সরকারের সঙ্গে রবির সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি, রাজ্যপালকে সরানোর জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও আর্জি জানিয়েছিলেন স্ট্যালিনেরা। এ বার আনন্দ বোসের উত্তরসূরি হিসাবে সেই রবিকেই পশ্চিমবঙ্গের লোকভবনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যপালের পদ থেকে আনন্দ বোসের আচমকা ইস্তফা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। রবির নাম পরবর্তী রাজ্যপাল হিসাবে ঘোষিত হওয়ার পর পরই সমাজমাধ্যমে মমতা লিখেছিলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী সিভি আনন্দ বোসের আচমকা পদত্যাগের খবরে আমি স্তম্ভিত এবং গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন’। এর পরে তিনি লেখেন, ‘এই মুহূর্তে তাঁর (বোস) পদত্যাগের কারণ আমার জানা নেই। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষার জন্য রাজ্যপাল যদি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপের মুখে পড়েন তবে আমি অবাক হব না’।