Advertisement
E-Paper

অন্তঃসত্ত্বা বৌদিকে মুগুর দিয়ে ‘খুন’ শাসনে

সকাল থেকে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল বন্ধ ঘরে। সন্ধ্যায় গুণিনের আসার কথা ছিল। কিন্তু, তার আগেই ছাড়া পেয়ে মুগুর দিয়ে মাথা ফাটিয়ে অন্তঃসত্ত্বা বৌদিকে খুন করার অভিযোগ উঠল সেই যুবকের বিরুদ্ধে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ ০০:০৬
শানুরা বিবি।

শানুরা বিবি।

সকাল থেকে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল বন্ধ ঘরে। সন্ধ্যায় গুণিনের আসার কথা ছিল। কিন্তু, তার আগেই ছাড়া পেয়ে মুগুর দিয়ে মাথা ফাটিয়ে অন্তঃসত্ত্বা বৌদিকে খুন করার অভিযোগ উঠল সেই যুবকের বিরুদ্ধে। মৃতার নাম শানুরা বিবি (২২)। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে শাসন থানার সন্ডালিয়ায়।

পুলিশ জানিয়েছে, শানুরা ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঘটনার পরেই অভিযুক্ত যুবক সাবির আলিকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন পড়শিরা। শানুরার স্বামী এজহারুল হক থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি সাবিরের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়েরা জানিয়েছেন, সপ্তাহখানেক আগে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন সাবির। শুক্রবার ফেরার পর থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন তিনি। এজহারুলের অবশ্য অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই তাঁর স্ত্রীকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাবির চাষের কাজ করেন। তাঁর বাড়ির পাশেই থাকেন এজহারুলরা। তিনি সাবিরের খুড়তুতো দাদা। সপ্তাহখানেক আগে সাবির পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে ঝাড়খণ্ড বেড়াতে গিয়েছিলেন। শুক্রবার সকালে বাড়ি ফেরেন। পরিবারের লোকেদের দাবি, তার পর থেকেই তিনি

অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। কখনও বাড়ি থেকে পালাতে চাইছিলেন, কখনও লোকজন দেখলেই তেড়ে যাচ্ছিলেন।

সাবিরের বন্ধুরাও জানান, ফেরার সময় থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন তিনি। এক বার চলন্ত বাস থেকে ঝাঁপ মারারও চেষ্টা করেন। বাসস্ট্যান্ড থেকে পালানোর চেষ্টাও করেছিলেন। কোনও রকমে তাঁকে বাড়ি ফেরানো হয়। বাড়ির লোকজন পুলিশকে জানান, শুক্রবার ফেরার পরে সাবির কারও সঙ্গে বিশেষ কথা বলছিলেন না। কেউ কিছু জানতে চাইলে কখনও তেড়ে আসছিলেন, কখনও চুপ করে থাকছিলেন। এমন আচরণ দেখে পড়শিদের অনেকে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

কিন্তু, তাঁর বাড়ির লোকেরা শনিবার সকালে এক গুণিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এলাকারই বাসিন্দা ওই গুণিন তাঁদের জানান, সন্ধ্যার আগে তিনি ঝাড়ফুঁক করবেন না। ততক্ষণ সাবিরকে যেন ঘরে আটকে রাখা হয়। বাড়ির লোকেরা জানিয়েছেন, এর আগে সাবিরের এমন সমস্যা হয়নি।

স্থানীয়েরা জানিয়েছেন, ওই দিন সকাল থেকে সাবিরকে একটা ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। মাঝেমধ্যে তিনি চিৎকার করছিলেন। বার কয়েক দরজা খুলে বেরোনোরও চেষ্টা করেন। সন্ধ্যায় গুণিনের আসার কথা ছিল। কিন্তু ঘর থেকে সাড়াশব্দ না পেয়ে এক জন দরজা খুলে দেখতে যান। সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে পড়েন সাবির। তাঁর মা তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযোগ, মাকে মারধর করে ফের পালানোর চেষ্টা করেন তিনি।

সে সময়ে কয়েক জন প্রতিবেশী সাবিরকে আটকানোর চেষ্টা করেন। তাঁদেরও এলোপাথাড়ি কিল-চড়-ঘুসি মেরে তিনি পালান। তখন ঘরের এক প্রান্তে দাঁড়িয়েছিলেন সাবিরের বৌদি শানুরা। তাঁর দিকে তেড়ে যান ওই যুবক। ছুটে পালাতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে যান শানুরা। আচমকাই উঠোনে পড়ে থাকা একটি মুগুর তুলে তাঁর মাথায় এলোপাথাড়ি আঘাত করতে থাকেন সাবির। শানুরা নেতিয়ে পড়তেই একটি ইট তুলে তিনি তাঁর পেটে মারেন।

ততক্ষণে পড়শিরা ছুটে এসে সাবিরকে মারধর করে ফের ঘরে বন্ধ করে পুলিশে খবর দেন। শানুরাকে বারাসত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বারাসত আদালত অভিযুক্তকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হেফাজতে থাকাকালীন সাবিরের আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি। তদন্তকারীদের বক্তব্য, অনেক সময়ে কড়া মাদকের প্রভাবে অনেকে এমন আচরণ করেন। সাবিরের ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটেছিল কি না, তা দেখা হচ্ছে। এজহারুলের অবশ্য অভিযোগ, পুরোটাই সাবিরের নাটক। তিনি বলেন, ‘‘পরিকল্পিত ভাবে সাবির আমার স্ত্রী এবং অনাগত সন্তানকে খুন করেছে। আমি ওর

ফাঁসি চাই।’’

Death Woman Knobstick
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy