Advertisement
E-Paper

Kali Puja 2021: শব্দ নিয়ন্ত্রণে এনে ব্যতিক্রম হাবড়া

বাসিন্দারা জানান, বাজি ফাটা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও দাপট কমেছে অনেকটাই। ধোঁয়া, কান ফাটানো শব্দ, আলোর ঝলকানি এ বার কম।

নিজস্ব সংবাদদাতা 

শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২১ ০৬:৫৩
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

লক্ষ্মীপুজোর পরে এ বার কালীপুজোর রাতেও হাবড়ায় শব্দবাজির দাপট তেমন দেখা গেল না। এই দুই উৎসবে সন্ধ্যা থেকে মাঝরাত পর্যন্ত শব্দবাজির তাণ্ডব দেখে অভ্যস্ত হাবড়াবাসী। তবে এ বার লক্ষ্মীপুজোয় বাজির দাপট কম ছিল। মোটের উপরে শান্ত ছিল শহর। কালীপুজোয় কী হবে, তা নিয়ে আশঙ্কিত ছিলেন মানুষ। শেষ পর্যন্ত বাজির দাপট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানালেন তাঁরা।

বাসিন্দারা জানান, বাজি ফাটা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও দাপট কমেছে অনেকটাই। ধোঁয়া, কান ফাটানো শব্দ, আলোর ঝলকানি এ বার কম। মানুষ নির্ভয়ে পথে বেরিয়েছেন। লক্ষ্মী ও কালীপুজোর রাতে শব্দবাজি ফাটানোর যে সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল, তাতে রাশ টানতে পারায় খুশি অনেকেই।

বাজির উপরে রাশ টানা গেল কী ভাবে?

শহরবাসীর একাংশের মতে, এর পিছনে আছে পুলিশ-প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ। তা ছাড়া, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকারও তারিফ করছেন অনেকে। মানুষের সচেতনতাও এর কারণ বলে মত তাঁদের। এ ছাড়া, করোনা পরিস্থিতিতে লোকের হাতে টাকার জোগান কমায় বাজি পোড়ানোর খরচেও অনেকে রাশ টেনেছেন বলে অনুমান। স্থানীয় বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও পুজোর আগে এলাকায় এসে শব্দবাজি না ফাটানোর কথা বলে গিয়েছিলেন।

হাবড়া শহরের বাসিন্দা তথা বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি বিপ্লব হালদার বলেন, “অন্য বছরগুলির তুলনায় এ বার কালীপুজোর রাতে শব্দবাজি ফেটেছে খুবই কম। মানুষ সচেতন হয়েছেন। পুলিশও সদর্থক ভূমিকা নিয়েছিল।” সিপিএমের হাবড়া শহর এরিয়া কমিটির সম্পাদক আশুতোষ রায়চৌধুরী বলেন, “শব্দবাজি একেবারে ফাটেনি তা নয়। তবে তুলনায় কম ফেটেছে। কেবল আইন দিয়ে এই প্রবণতা বন্ধ করা যাবে না। মানুষকেও সচেতন করতে হবে। যাঁদের হাতে টাকা-পয়সা আছে, তাঁদের নিয়েই সমস্যা।”

এ বার লক্ষ্মীপুজোর আগে থেকে বেআইনি শব্দবাজি মজুত ও বিক্রির বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান শুরু করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত হাবড়ায় পুলিশের ১০টি গাড়ি ও ১০টি বাইক অলিগলি টহল দিয়েছে। আইসি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় নিজেও ভোর পর্যন্ত শহরে ঘুরেছেন। তিনি বলেন, “লক্ষ্মীপুজোর আগে থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১৩০ কেজি শব্দবাজি আটক করে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়েছে। এর ফল মিলেছে।”

পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে, লক্ষ্মীপুজোর আগে বাজি ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা যেন শব্দবাজি মজুত করে বিক্রি না করেন। পুরপ্রশাসক নারায়ণ সাহা বলেন, “বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত আমি বাড়ির বাইরে ছিলাম। কোনও বাজি ফাটার আওয়াজ পাইনি। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সচেতন হওয়ায় সুস্থ সংস্কৃতি ফিরেছে। পুলিশও কড়া পদক্ষেপ করেছিল।” শহরের বাসিন্দা, শিক্ষক সত্যজিৎ বিশ্বাস বলেন, “অন্য বছরগুলির তুলনায় এ বার কার্যত খুবই কম শব্দবাজি ফেটেছে। লক্ষ্মীপুজো ও কালীপুজোয় যে পরিবেশ দেখলাম, সেটাই এত দিন আমরা চেয়ে এসেছি।” বাসিন্দাদের দাবি, আগামী বছর থেকে শব্দবাজি ফাটানো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পদক্ষেপ করুক পুলিশ-প্রশাসন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy