২ মাসের একটি শিশুকে খুনের অভিযোগে উত্তাল উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ থানার বোলদেপোতা এলাকা। পরিবারের অভিযোগ, বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে শিশুটিকে খুন করা হয়। তার পর পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করছে পুলিশ।
মৃত শিশুর নাম ফিজ়া মণ্ডল। বাড়িতে রয়েছেন তার মা ফিরোজা মণ্ডল এবং দাদু-ঠাকুমা। বাবা তাজউদ্দিন মণ্ডল কর্মসূত্রে থাকেন ভিন্রাজ্যে। পরিবার সূত্রে খবর, রবিবার সন্ধ্যায় পাশের বাড়িতে গিয়েছিলেন ফিজ়ার দাদু-ঠাকুমা। মেয়েকে বারান্দায় খাটে শুইয়ে গৃহস্থালির কাজ করছিলেন ফিরোজা। তিনি শৌচাগার থেকে ঘরে ফিরে দেখেন মেয়ে নেই! সকলকে ডাকাডাকি করেন ফিরোজা। কেউ মেয়েকে নিয়ে গিয়েছেন কি না, খোঁজখবর করেন। কিন্তু প্রতিবেশীরা সকলেই জানান, কেউ ফিজ়াকে দেখেননি। বেশ খানিক ক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর হাসনাবাদ থানায় খবর দেয় পরিবার।
পুলিশ গ্রামবাসীদের নিয়ে শিশুটির খোঁজ করছিল। রাতে ফিজ়াদের বাড়ির পাশের পুকুরে টর্চের আলো ফেলে চমকে যান সকলে। পুকুর থেকে সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে উদ্ধার করে টাকি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানান, আগেই মারা গিয়েছে সে।
আরও পড়ুন:
পরিবারের তরফে হাসনাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, পরিকল্পিত ভাবে শিশুটিকে খুন করা হয়েছে। সম্ভবত তাকে জলে ফেলে খুন করা হয়েছে। শিশুটির মা বলেন, ‘‘আমাদের কোনও শত্রু নেই। এ রকম ভাবে আমার বাচ্চাকে কারা খুন করল, জানতে চাই। বিচার চাই এই খুনের।’’
রবিবার থেকে দফায় দফায় পুলিশ তদন্তের জন্য ওই গ্রামে গিয়েছে। বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার অলকানন্দা ভাওয়াল নিজে মৃত শিশুটির বাড়িতে যান। তিনি আলাদা করে ফিজ়ার মা এবং ঠাকুমার সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রতিবেশীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে। শীঘ্রই দোষীরা ধরা পড়বে। বসিরহাট জেলা হাসপাতালে দেহের ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটিকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।