Advertisement
E-Paper

Smuggling: বিপুল চাহিদা, চোরাপথে ঢুকছে পদ্মার ইলিশ

পুলিশ-বিএসএফের তৎপরতা যারা ধরা পড়ে, তারা মূলত ক্যারিয়ার। চোরাকারবারের মূল মাথারা অধরাই থেকে যায়।

সীমান্ত মৈত্র  

শেষ আপডেট: ২৯ অগস্ট ২০২১ ০৭:২০
রুপোলি শস্য: চোরাপথে আসছে এই ইলিশ।

রুপোলি শস্য: চোরাপথে আসছে এই ইলিশ। ফাইল চিত্র।

সরকারি ভাবে বাংলাদেশ সরকার এ দেশে ইলিশ রফতানি বন্ধ রেখেছে। কিন্তু রাজ্যের বাঙালিদের মধ্যে ওপার বাংলার পদ্মার ইলিশের চাহিদা প্রচুর। যে কারণে প্রতি মরসুমেই চোরাপথে এ দেশের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের ইলিশ ঢুকছে। তাতে অবশ্য ইলিশ-প্রিয় আমবাঙালি অখুশি নয়। কিন্তু পাচার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে পুলিশ-প্রশাসনের কাছে।

এ বারও ব্যতিক্রম হয়নি। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বনগাঁ ও বসিরহাট মহকুমা সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে ঢুকছে ইলিশ। এ দেশের মৎস্যজীবীদের জালে এ বার সে ভাবে ইলিশ না উঠলেও বাংলাদেশের সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ উঠছে। এ দেশে পাচারও বেড়ে চলেছে। ইতিমধ্যেই বিএসএফ তিন দফায় বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্ত থেকে ইলিশ পাচারের সময়ে ৬৪ কেজি ইলিশ আটক করেছে। তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

কী ভাবে চোরাপথে ঢুকছে ইলিশ?

স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ভারত-বাংলাদেশের আংরাইল ও হাকিমপুর সীমান্তে কাঁটাতার নেই। দু’দেশের সীমানার মাঝে ইছামতী ও সোনাই নদী। সেখানে নেমে পড়ে দু’দেশের পাচারকারীরা। জলের মধ্যেই হাতবদল হয় ইলিশ-বোঝাই ব্যাগের। বাংলাদেশ থেকে নদীতে নেমে সাঁতরে এসে এ পারের নৌকোয় অনেকে মাছ তুলে দিয়ে যাচ্ছে বলেও জানা গেল।

কাঁটাতারের ও পাশে যাঁরা চাষের কাজে যান, তাঁরাও ইলিশের ব্যাগ দেশে নিয়ে ঢুকছেন। আবার কাঁটাতারের ওপার থেকে এ দিকে ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে ইলিশ-বোঝাই ব্যাগ। ঘাসের বস্তায় ভরে তা নিয়ে চলে আসছেন এপারের পুরুষ-মহিলারা। এ কাজের জন্য ২০০-৩০০ টাকা পাচ্ছেন তাঁরা।

বছর নয়েক আগে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার কথা বলে সরকারি ভাবে বাংলাদেশ সরকার এ দেশে ইলিশ রফতানি বন্ধ করে। এখন প্রতিবছর কয়েক টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দেয় বাংলাদেশ সরকার। রফতানি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই প্রতিবছর ইলিশের মরসুমে এ দেশে চোরাপথে ইলিশ পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ। বনগাঁ ও বসিরহাট মহকুমার বাজারগুলিতে চড়া দামে গোপনে বিক্রি হচ্ছে পড়শি দেশের ইলিশ। পাচারকারীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলেও মিলছে ইলিশ। সাইজ অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে ১৮০০-২২০০ টাকায়। চোরাপথে আসা ইলিশের ওজন এক কেজির উপরে। স্বাদও ভাল।

এ রাজ্যের ইলিশ আমদানিকারী সংস্থা হিলশার সভাপতি অতুলচন্দ্র দাস বলেন, ‘‘সরকারি ভাবে বাংলাদেশ সরকার ইলিশ রফতানি বন্ধ করার ফলে চোরাপথে ইলিশ পাচার বেড়ে গিয়েছে। তবে আগেও ইলিশ পাচার হত। চোরাপথে ইলিশ ঢোকা ও দেশের সরকার বন্ধ করতে পারছে না। ফলে বাংলাদেশ সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, ইলিশ রফতানি আগের মতো উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।’’

বনগাঁ মহকুমায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে ১২৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৪ কিলোমিটার অংশে কাঁটাতার নেই। রয়েছে দীর্ঘ নদী সীমান্ত। ইলিশ পাচারকারীরা মূলত কাঁটাতারহীন পথ এবং জলপথ ব্যবহার করে ইলিশ আনার ক্ষেত্রে। বসিরহাট মহকুমার হাকিমপুর, ঘোজাডাঙা, কৈজুড়ি, পানিতর সীমান্ত দিয়ে ইলিশ ঢুকছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ১০ কেজি থেকে ১০০ কেজি ইলিশ একবারে আনে পাচারকারীরা।

পুলিশ-বিএসএফের তৎপরতা যারা ধরা পড়ে, তারা মূলত ক্যারিয়ার। চোরাকারবারের মূল মাথারা অধরাই থেকে যায়। টাকা-পয়সার লেনদেন হয় চোরাপথেই। অনলাইনেও লেনদেন হয়। দু’দেশের কারবারিদের মধ্যে হোয়াটঅ্যাপ কলে বেশি কথা হয় বলে জানতে পারছে পুলিশ।

গরু পাচার বা সোনা পাচারকারীরা অবশ্য ইলিশ পাচারে যুক্ত থাকে না বলেই জানতে পারছেন গোয়েন্দারা। কারণ, ইলিশ পাচার খুব লাভজনক নয়। করোনা বিধিনিষেধের কারণে অনেকেই কাজকর্ম হারিয়েছেন। তাঁদের অনেকে ইলিশ পাচারের কাজে জড়াচ্ছেন।

পুলিশ জানাচ্ছে, ইলিশ পাচার রুখতে সচেষ্ট থাকা হয়। তবে ছোট ব্যাগে করে এ ধরনের পাচার হওয়ায় সহজে নজরে পড়ে না। মাছ বোঝাই ট্রাকে অন্য মাছের সঙ্গে বরফ চাপা দিয়ে আনা হলেও বোঝা মুশকিল হয়।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy