E-Paper

সংস্কৃতির মোড়কে ভোটের প্রচার নববর্ষে

বনগাঁ বরাবরই সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ। এই অঞ্চলের বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য, সঙ্গীত ও নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৩১
নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক মিছিলে যোগ দিলেন বনগাঁ উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস।

নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক মিছিলে যোগ দিলেন বনগাঁ উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস। নিজস্ব চিত্র।

বিধানসভা ভোটের আগে সাংস্কৃতিক জগতের মানুষের সমর্থন পেতে তৎপর তৃণমূল। সেই লক্ষ্যে দলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার পক্ষ থেকে গড়ে তোলা হয়েছে একটি পৃথক সাংস্কৃতিক সেল। বাংলা নববর্ষের সকালে তারই প্রতিফলন দেখা গেল বনগাঁ শহরের রাস্তায়। সাংস্কৃতিক মিছিলে যোগ দিলেন শহরের বহু সঙ্গীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, আবৃত্তিকার, নাট্যকর্মী ও সাহিত্যিক। রাজনৈতিক মিছিলের প্রচলিত ধারা ভেঙে এখানে ছিল না কোনও দলীয় স্লোগান বা পতাকার বাড়াবাড়ি। বরং গান, নাচ, আবৃত্তি ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে সাংস্কৃতিক আবহে শহর পরিক্রমা করেন সকলে। নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে সামনে ছিল তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাসের ছবি-সহ ফ্লেক্স।

বনগাঁ বরাবরই সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ। এই অঞ্চলের বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য, সঙ্গীত ও নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। তবে এতদিন তৃণমূলের কোনও সংগঠিত সাংস্কৃতিক শাখা এখানে সক্রিয় ছিল না। সেই অভাব পূরণ করতেই এই নতুন সাংস্কৃতিক সেল গঠন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।

তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তাহারেও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলা, যেখানে থাকবে গান রেকর্ডিংয়ের সুবিধা। পাশাপাশি, চিত্রশিল্পী ও ভাস্করদের জন্য একটি স্থায়ী আর্ট গ্যালারি তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বসত ভিটেকে হেরিটেজ মর্যাদা দিয়ে মিউজিয়ামে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দল।

বিশ্বজিৎ বলেন, “বনগাঁ শিল্প-সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চার এক গর্বিত ঐতিহ্য বহন করে। কিন্তু উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাব ছিল দীর্ঘদিন। আমরা ক্ষমতায় এলে সেই ঘাটতি পূরণে উদ্যোগী হব।”

এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা। সিপিএম প্রার্থী পীযূষকান্তি সাহার অভিযোগ, “তৃণমূল কখনও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার ধারক নয়, বরং অপসংস্কৃতির প্রসার ঘটিয়েছে।” অন্য দিকে বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার কথায়, “দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূলকে মানুষ ইতিমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে। এই ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ভোটে কোনও প্রভাব ফেলবে না।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bangaon TMC Cultural Program

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy