পুরপ্রশাসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে টাকি পুরসভার সামনে ক্ষোভ দেখালেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। নাগরিক পরিষেবা নিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছেন তাঁরা। সরকারি টাকায় পুরপ্রশাসক বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছেন বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।
বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই প্রকাশ্যে এল বলে মনে করছেন নাগরিকেরা। পুরপ্রশাসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে এ দিন পোস্টার সাঁটানো হয়। পুরসভার সামনে মাইক বেঁধে বিক্ষোভ চলে। প্রায় ২৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কেনা নতুন গাড়ির চাকায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
পুরপ্রশাসক সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সরকারি গাড়ি আমি বড় একটা চড়ি না। মরচে পড়া পুরসভার গাড়ি মেরামত না করে নতুন গাড়ি কেনা হয়েছে। এতে দুর্নীতির কিছু নেই।’’
নাগরিক পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘করোনার জন্য কাজ বন্ধ ছিল। সম্প্রতি টেন্ডার হয়েছে। উন্নয়নের কাজ শুরু হবে। টাকার বিষয়ে কিছু সমস্যা আছে। তা সকলের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।’’ এ দিনের ঘটনার পিছনে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আছে বলে মানতে চাননি তিনি।
এ দিন বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, পুরসভায় উন্নয়নমূলক কাজ প্রায় বন্ধ। এক দিকে করোনা, অন্য দিকে বর্ষা শুরুর মুখে ডেঙ্গির আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যে সময়ে ব্লিচিং ছড়িয়ে মশা ধ্বংস করার প্রয়োজন, সে সময়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে কয়েকজনের স্বার্থে দামি গাড়ি কেনা হচ্ছে।
পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের কাউন্সিলর এবং টাকি যুব তৃণমূলের সভাপতি চিন্ময় মণ্ডল বলেন, ‘‘ওয়ার্ড আবর্জনায় ভরে গিয়েছে। রাস্তাঘাট বেহাল। নিকাশি নালা, আগাছা সাফ কথা বলা হলে টাকা নেই বলে দাবি করেন পুরপ্রশাসক। অথচ গত চার বছর আগে কেনা একটা গাড়ি বিক্রি করে সরকারি প্রকল্পের ২৩ লক্ষ টাকা দিয়ে নতুন গাড়ি কেনা হল। আমাদের সকলকে অন্ধকারে রেখে পুর প্রশাসকের এ হেন কাজ মানুষ ভাল ভাবে দেখছেন না।’’
গাড়ি কেনার ব্যাপারটি যে ভাল চোখে দেখছেন না দলের নেতৃত্বের একাংশও। সরাসরি এ নিয়ে মন্তব্য না করলেও স্থানীয় বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এলাকার উন্নয়নকে সামনে রেখে সরকারি টাকা খরচ করা উচিত।’’