Advertisement
E-Paper

প্রেমের টানে কলকাতা থেকে হরিয়ানা পালিয়েছিলেন, সেই প্রেমিকের হাতেই খুন! পম্পা-পঙ্কজের পরিণতির কারণ?

দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ার তেঁতুলতলা এলাকায় প্রায় ১৫ বছর ধরে একটি পার্লার চালাতেন রূপটানশিল্পী রূপবাণী দাস ওরফে পম্পা। মঙ্গলবার সেখানেই তাঁকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেন প্রেমিক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ২১:৩৯
Garia Double Death

গড়িয়ার নিজের পার্লারের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় রূপবাণী ওরফে পম্পার দেহ।— নিজস্ব ছবি।

সমাজমাধ্যমে পরিচয়। সেখান থেকে প্রেম এবং প্রণয়ঘটিত কারণে পরিবারে অশান্তি। গড়িয়ার বিউটি পার্লারের কর্ণধার রূপবাণী দাসের খুন এবং তাঁর প্রেমিক পঙ্কজ নাথের আত্মহত্যার নেপথ্যে মূলত এটাই কারণ বলে জানাচ্ছেন তদন্তকারীরা। গড়িয়াকাণ্ডে মৃতার স্বামী ইতিমধ্যে থানায় অভিযোগ করেছেন। অন্য দিকে, তাঁর স্ত্রীর প্রেমিকের পরিবারের তরফে মৌখিক ভাবে নানা অভিযোগ করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ার তেঁতুলতলা এলাকায় প্রায় ১৫ বছর ধরে একটি পার্লার চালাতেন রূপটানশিল্পী রূপবাণী। এলাকায় তিনি পম্পা নামে অধিক পরিচিত। পরিবার সূত্রে খবর, মধ্যবয়স্কা পম্পা বেশ কিছু দিন ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। প্রেমিক তাঁর চেয়ে বছর কয়েকের ছোট। নাম পঙ্কজ। বাড়়ি হরিয়ানায়। সমাজমাধ্যমে পম্পা-পঙ্কজের আলাপ কিছু দিনের মধ্যে গভীর হয়। তার পরেই গোলমালের শুরু।

গড়িয়ার তেঁতুলতলার এক বাসিন্দা তথা ব্যবসায়ীর কথায়, ‘‘পম্পাদির বিউটি পার্লারে নিয়মিত কাস্টমার থাকতেন। ভালই চলত ব্যবসা। স্বামী এবং দুই সন্তানকেও আমরা চিনি। বেশ ভালই সকলে। কিন্তু কী থেকে কী হয়ে যায়!’’ তিনি জানান, বুধবার দুপুরে নিজের পার্লারের মধ্যে ‘পম্পাদি’র খুন এবং তাঁর ‘প্রেমিকের’ আত্মহত্যার কথা শুনে নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারেননি প্রথমে।

পম্পার পরিবার সূত্রে খবর, প্রেমিকের সঙ্গে থাকবেন বলে স্বামী-সন্তান ছেড়ে কয়েক মাস আগে হরিয়ানায় চলে গিয়েছিলেন মহিলা। বেশ কিছু দিন সেখানে থাকেন। তবে মাস দুয়েক আগে আবার ফিরেও আসেন। পরিবারকে গুরুত্ব দিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছিলেন। সেটাই ‘কাল’ হল।

মঙ্গলবার দুপুরে পম্পার স্বামী অনুপকুমার দাস তাঁকে পার্লারে পৌঁছে দেন বাইকে। তিনি চলে যাওয়ার কিছু ক্ষণের মধ্যে পার্লারে ঢোকেন হরিয়ানার বাসিন্দা পঙ্কজ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পার্লারে ঢুকে সটান ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন ওই যুবক। বেশ খানিক ক্ষণ দু’জনের জোর তর্কাতর্কি হয়। তার পর সেটা হাতাহাতিতে পৌঁছোয়। পরে পঙ্কজ দরজা খুলে বেরিয়ে আসেন। তিনি পার্লারের বাইরে গিয়ে লুটিয়ে পড়েন। ভিতরে অচেতন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন পম্পা।

পরে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’জনের নিথর দেহ উদ্ধার করেন। উদ্ধার হয় ধারালো অস্ত্র, প্রেমিক-প্রেমিকার রক্তমাখা পোশাক ইত্যাদি। তদন্তের নমুনা সংগ্রহ হয়। পার্লার ‘সিল’ করে দু’টি দেহ পাঠানো হয় ময়নাতদন্তে।

বুধবার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের একটি সূত্রে খবর, পম্পা এবং পঙ্কজের মোবাইল, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ইত্যাদি তদন্তের নমুনা হিসাবে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মৃতার স্বামী থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

অন্য দিকে, পঙ্কজের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে যুবকের এক আত্মীয়ের দাবি, পম্পা হরিয়ানায় গিয়েছিলেন। তখন পরিবারের সকলের কাছে তাঁকে স্ত্রী বলেই পরিচয় দিয়েছিলেন পঙ্কজ। কাজের জন্য ফিরতে হবে বলে কলকাতায় চলে আসেন পম্পা। কিন্তু তার পর আচমকাই পঙ্কজের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে পম্পার নামে নরেন্দ্রপুর থানায় একটি ‘মিসিং ডায়েরি’ দায়ের করেছিল পরিবার। তদন্তের স্বার্থে পঙ্কজের পরিবারকে হরিয়ানা থেকে কলকাতায় ডেকেছে পুলিশ। প্রেমিকাকে খুন করে প্রেমিকের আত্মহত্যার ঘটনায় আরও তথ্যতালাশ করছেন তদন্তকারীরা।

Extramarital Affair Murder sucide Crime Garia
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy