এক নাবালিকাকে অপহরণ, পাচার এবং ধর্ষণের ঘটনার তদন্তে নেমে নারী পাচার চক্রের পর্দা ফাঁস করল সুন্দরবন জেলা পুলিশ। পাচার চক্রের দুই পান্ডাকে মুম্বইয়ের ঠাণে এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছেন মন্দিরবাজার থানার তদন্তকারী অফিসাররা। ধৃত বালেশ্বর গুপ্ত (৩৮) নওঘর থানা এলাকার এবং রাদিক কুমার যাদব (৩৬) ভায়ান্দের থানা এলাকার বাসিন্দা হলেও দু’জনেরই আসল বাড়ি ঝাড়খণ্ডে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, নারী পাচার-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। শনিবার ধৃতদের ডায়মন্ড হারবার এসিজেএম আদালতে পেশ করা হয়েছে।
পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ি থেকে বাজার করতে বেরিয়ে গত ২২ জুন নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল মন্দিরবাজারের কারবালা এলাকার এক নাবালিকা। তার পর পুলিশের দ্বারস্থ হয় ওই নাবালিকার পরিবার। গত ৯ সেপ্টেম্বর বাড়িতে ফোন করে ওই নাবালিকা জানায়, নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার দিন মন্দিরবাজারের দক্ষিণ বিষ্ণুপুর কালী মন্দিরের কাছে শাহরুখ নামের এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মোটা টাকার চাকরির মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তাকে মুম্বইয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এর পর সালামত নামে এক ব্যক্তির কাছে তাকে রাখা হয়। সেখানেই নাবালিকাকে লাগাতার ধর্ষণ করার পাশাপাশি মোটা টাকার বিনিময়ে তাকে দেহ ব্যবসার কাজে নামানো হয় বলে অভিযোগ। এর পরে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নাবালিকাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠায়। নাবালিকা বাড়িতে ফেরার পর ১ জানুয়ারি মন্দিরবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তার বাবা।
ঘটনার তদন্তের জন্য সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার বৈভব তিওয়ারির নির্দেশে মন্দিরবাজার থানার এসআই সাকিব সাহাবের নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। এর পর গত ৭ জানুয়ারী ঢোলাহাট থানার রায়পুর এলাকা থেকে শাহরুখ হোসেন মোল্লাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৮ জানুয়ারি মন্দিরবাজারের দাদপুর এলাকা থেকে সালামত গায়েনকে গ্রেফতার করা হয়। ২ অভিযুক্ত জিজ্ঞাসাবাদের সময় নিজেদের দোষ কবুল করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারী অফিসাররা মিঠু নামে এক দুষ্কৃতীর নাম জানতে পারে। পরে হাওড়ার সাঁকরাইলের ধুলাগড় থেকে মিঠু নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশি জেরায় ধৃত মিঠু জানায়, নারী পাচারের একটি বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে মুম্বইয়ে। সেই চক্রই পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মহিলাদের পাচার করে বিক্রি করে দেয়। সারা ভারত জুড়েই এই চক্র জাল বিছিয়ে রেখেছে বলেও জানতে পারে পুলিশ। এর পর দেরি না করে মন্দিরবাজার থানার ৫ সদস্যের তদন্তকারী দল ২৪ জানুয়ারি মুম্বইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সেখানে মহারাষ্ট্র পুলিশের সহযোগিতায় গত মঙ্গলবার বালেশ্বর গুপ্ত এবং রাদিক কুমার যাদবকে গ্রেফতার করা হয়। মুম্বই পুলিশের চোখে এই দু’জন কুখ্যাত অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত। দীর্ঘদিন ধরে তারা ফেরার ছিল। ধৃতদেরকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে শুক্রবার রাতে ফিরে আসে মন্দিরবাজার থানার তদন্তকারী দলটি। ধৃতদের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, নারী পাচার সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।