Advertisement
E-Paper

পথে বেরিয়ে নিরাপদে থাকুক মেয়েরা, দাবি বাদুড়িয়ার বধূর

১৭টি ওয়ার্ডে বিন্যস্ত বাদুড়িয়া পুরসভার বয়স প্রায় দেড়শো পেরিয়েছে। কিন্তু শুরু থেকেই ওয়ার্ড বিন্যাসের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা থাকায় বাদুড়িয়ার উন্নয়নের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা হয়েছে। কিছু ওয়ার্ড ইছামতীর এক পাড়ে। কিছু অন্য পাড়ে। ওয়ার্ডের মধ্যে মধ্যে ঢুকে পড়েছে পঞ্চায়েত এলাকা। ফলে পুরসভা ও পঞ্চায়েতের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বহু ক্ষেত্রে উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্মল বসু

শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০১৫ ০২:২৩
বাঁ দিক থেকে, হেমা ঘোষ, তনুজা বিবি, ফতিমা বিবি, রমা কর ও রানু সরকার। —নিজস্ব চিত্র।

বাঁ দিক থেকে, হেমা ঘোষ, তনুজা বিবি, ফতিমা বিবি, রমা কর ও রানু সরকার। —নিজস্ব চিত্র।

১৭টি ওয়ার্ডে বিন্যস্ত বাদুড়িয়া পুরসভার বয়স প্রায় দেড়শো পেরিয়েছে। কিন্তু শুরু থেকেই ওয়ার্ড বিন্যাসের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা থাকায় বাদুড়িয়ার উন্নয়নের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা হয়েছে। কিছু ওয়ার্ড ইছামতীর এক পাড়ে। কিছু অন্য পাড়ে। ওয়ার্ডের মধ্যে মধ্যে ঢুকে পড়েছে পঞ্চায়েত এলাকা। ফলে পুরসভা ও পঞ্চায়েতের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বহু ক্ষেত্রে উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একে তো বড় কোনও শিল্প আসেনি এই এলাকায়। রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ। পানীয় জল আর্সেনিক-মুক্ত নয় বেশির ভাগ এলাকায়। বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ পৌঁছয়নি সর্বত্র।

এলাকার গৃহবধূদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল তাঁদের চাহিদা, অভিযোগের কথা। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের জোড়া অশ্বত্থতলায় থাকেন তনুজা বিবি। বাড়ির সামনে বসে বাসন মাজছিলেন। কথা বলতে গিয়ে দেখা গেল, উন্নয়ন নিয়ে বেশ হতাশ। তাঁর কথায়, ‘‘ছেলে বিয়ে পাশ করেও বেকার হয়ে বসে আছে। কোনও চাকরি-বাকরি নেই এলাকায়।’’ এলাকার আরও সমস্যার কথা তুলে ধরলেন তিনি। জানালেন, বাড়ি বাড়ি কল বসলেও আর্সেনিকমুক্ত জলের অভাবে সকলে আতঙ্কে থাকেন। পুরসভার কল নেই। রাস্তাঘাটের অবস্থা বেশ খারাপ। মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠী তেমন ভাবে গড়ে ওঠেনি। সব মিলিয়ে উন্নয়ন তেমন কিছুই চোখে পড়ে না।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিমপড়ার বাসিন্দা রানু সরকার মাধ্যমিক পাশ। কিন্তু পড়াশোনা করেও চাকরি-বাকরির সুযোগ পাননি বলে জানালেন। তাঁর কথায়, ‘‘ওয়ার্ডের মধ্যে মধ্যে পঞ্চায়ে‌ত এলাকা ঢুকে আছে। পুর এলাকার অবস্থাও পঞ্চায়েতেরই মতো। রাস্তাঘাট নেই। পানীয় জলের সমস্যা আছে।’’ মেয়েদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন তাঁরা, এমনটাই জানালেন রানু। শহর-লাগোয়া নদী। তার পাড় ধরে সন্ধের পর আসতে বেশ ভয় ভয় করে, বলেন তিনি। কাছাকাছি বেশ কিছু ইটভাটা আছে। ওই সব এলাকায় নিরাপত্তা বলতে তেমন কিছু নেই বলেই জানালেন ওই বধূ। তার উপরে রাস্তায় আলো বসেনি বহু এলাকায়।

হেমা ঘোষের বাড়ি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পুরসভার কাছে বাদুড়িয়া রোডের পাশে। তিনি বলেন, ‘‘নিকাশি ব্যবস্থাটা এখানে একেবারে ভেঙে পড়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই এলাকা জলে থই থই করে।’’ ইছামতীর পাড়ে সৌন্দ্যর্যায়ন দরকার বলে হেমাদেবীর মত। এলাকায় কোনও পার্ক, বিনোদনের জায়গা নেই। সকলের জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি। পুরসভার একটি পার্ক ছিল। কিন্তু সেটি বেহাল। পার্কের দেওয়ালে ঘঁটে দেওয়া হয়। সন্ধের দিকে দুষ্কৃতীদের আড্ডা বসে। হেমাদেবী জানান, চারি দিকে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাটা পুরসভার অন্যতম কাজ হওয়া উচিত। মহিলাদের কর্মসংস্থানও পুরসভার কাজের তালিকায় আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের গৌড়বঙ্গ রোডে থানার কাছেই বাড়ি রমা করের। কিন্তু থানার এত কাছে থেকেও নিরাপত্তার অভাবে ভুগতে হয়, জানালেন তিনি। চুরি-ছিনতাই বাড়ায় উদ্বিগ্ন রমাদেবী বলেন, ‘‘সন্ধের পরে একা বেরোতে সাহস হয় না।’’ মেয়েরাও যাতে দিনে-রাতে নিরাপদ ভাবে ঘোরাঘুরি করতে পারে, সেটা চান রমা। বলেন, ‘‘সব রাস্তায় অবিলম্বে আলো লাগানো দরকার।’’ নিকাশি বেহাল হওয়ায় নালা-নদর্মা নিয়মিত পরিষ্কার হয় না বলে অভিযোগ তাঁর। ফলে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ে। পুরসভা ও পঞ্চায়েতের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বহু ক্ষেত্রে চোখে পড়েছে বলে জানালেন তিনি।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের আড়বেলিয়ার বাসিন্দা ফতিমা বিবিও মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এই এলাকায় একে তেমন কোনও কর্মসংস্থান নেই। তার উপরে কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা খুবই খারাপ। ট্রেন লাইন চালুই হয়নি। বাসও কম।’’ তাঁর মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন না ঘটলে এলাকার সার্বিক অগ্রগতি হবে কী ভাবে!

Municipal election Baduria security Ichamati River education job police train southbengal Nirmal Basu
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy