প্রেমিকাকে ফোন করে আত্মহত্যা করেন প্রেমিক। তার পর নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন প্রেমিকাও। যুগলের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে শোরগোল উত্তর ২৪ পরগনার মাটিয়া থানার মোমিনপুর এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃতদের নাম ফারুক গাজি এবং করিমা খাতুন। ফারুকের বয়স ২৪ বছর। পেশায় দর্জি। ২০ বছরের করিমা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। দু’জনেই প্রতিবেশী। তাঁদের প্রায় পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক। সম্প্রতি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যুগল। তা নিয়েই গন্ডগোলের সূত্রপাত।
ফারুকের তুলনায় করিমার বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভাল। তাই দুই বাড়িতে সম্পর্কের কথা জানাজানি হতেই অশান্তি শুরু হয়। ফারুকের পরিবারের আপত্তি ছিল না। কিন্তু করিমার বাড়ি জানিয়ে দেয়, এই সম্পর্ক তারা মানবে না। ফারুকের বাড়ির লোকজন বেশ কয়েক বার করিমার বাড়ি গিয়ে বিয়েতে রাজি করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
রবিবার রাতে ফারুক ফোনে করেন প্রেমিকাকে। তিনি জানান, তাঁদের সম্পর্ক পরিণতি পাবে না। আবার তিনিও করিমাকে ছেড়ে থাতে পারবেন না। তাই আত্মহত্যা করছেন। সোমবার সকালে দুই বাড়িতেই দু’টি ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ফারুকের মতো করিমাও গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ জোড়া দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুন:
ফারুকের কাকা জাকির হোসেন গাজি বলেন, ‘‘পাঁচ বছর ধরে ফারুক একটি মেয়েকে ভালবাসত। দু’জনেই দু’জনের বাড়িতে জানিয়েছিল। আমাদের পরিবারের তরফ থেকে বহুবার মেয়ের বাড়িতে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু করিমার পরিবারের কেউ এই বিয়েতে রাজি হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, ছেলে সেলাইয়ের কাজ করে। রোজগার ভাল না। এমন একজনের হাতে মেয়েকে তুলে দেবেন না।’’ যদিও সদ্য কন্যাহারা বাবর আলি মণ্ডল এই সমস্ত কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘‘কী করে এই ঘটনা ঘটল, আমরা জানি না। ওর প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না, তা-ও আমরা জানতাম না।’’
মাটিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, বসিরহাট পুলিশ মর্গে ময়নাতদন্তের পর দুই পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হবে। মৃতদের পরিবারকে আলাদা ভাবে থানায় ডাকা হয়েছে। তদন্ত চলছে।