নাবালিকাকে পাচারের ঘটনায় তিন জনের বিরুদ্ধে বসিরহাট থানায় অভিযোগ জানিয়েছে মেয়েটির পরিবার। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের নাম সহিদ গাজি, সওকত গাজি ও খাইরুল দফাদার ওরফে বাপি। মেয়েটির বাড়ি বসিরহাটের সোলাদানায়। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে বছর চোদ্দোর কিশোরী। বসিরহাট থানার আই সি গৌতম মিত্র বলেন, ‘‘হাড়োয়ার এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেম ছিল মেয়েটির। ওই ছেলেটির বাড়িতে চলে যায় মেয়েটি। পরে ওই ব্যক্তি এবং তার দুই সঙ্গী মেয়েটিকে নিয়ে পালিয়েছে বলে নিখোঁজ মেয়েটির মা থানায় অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।’’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মোবাইলে আলাপ জমিয়ে নাবালিকাদের পাচারের একটি চক্র সম্প্রতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বসিরহাট মহকুমায়। সম্প্রতি অন্য একটি ঘটনায় মোবাইলে সম্পর্ক তৈরির পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই কিশোরীকে কয়েকজন দুষ্কৃতী গণধর্ষণও করে।
পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত হাড়োয়ার খাটরা গ্রামের বাসিন্দা সহিদ গাজির বছর প্রায় চল্লিশ বছর। মোবাইলেই মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে সে। মেয়েটি স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কয়েক দিন ধরে আর ফেরেনি। আত্মীয়স্বজন খোঁজ-খবর করে জানতে পারেন, সহিদের বাড়িতেই উঠেছিল মেয়েটি। কিন্তু সেখানে কিছু দিন থাকার পরে আর দেখা যাচ্ছে না দু’জনকে।
সহিদের বিরুদ্ধে মহিলা পাচারের কয়েকটি অভিযোগ আগেও উঠেছে। ফলে পরিবারের লোকজন আশঙ্কা করেন, মেয়েকে কোথাও পাচার করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে মেয়েটির মায়ের মোবাইলে মেয়ের ফোন আসে। সে জানায়, মুম্বইয়ের খাটরা বস্তিতে আটকে রাখা হয়েছে তাকে। কয়েক জনের নামও জানায় বলে মায়ের দাবি। এরপরেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে থানা-পুলিশ করতে না চাইলেও পরে পুলিশের দ্বারস্থ হন মেয়ের মা। মেয়েটির খোঁজে মুম্বই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বসিরহাট থানার পুলিশ।