গোষ্ঠী বিবাদের জেরে টিটাগড়ে এক ব্যক্তিকে গুলি করে পালাল দুষ্কৃতীরা। পুলিশ জানিয়েছে, আহতের নাম শেখ আসলাম (২৮)। বাড়ি টিটাগড়ে।
রবিবার দুপুরে পুরনোবাজার এলাকায় একটি জায়গায় বসে জুয়া খেলছিলেন আসলাম। সেখানে আচমকাই কয়েক জন মোটরবাইক চড়ে এসে তাঁকে নাম ধরে ডাকে। তিনি উঠে আসতেই দুষ্কৃতীরা গুলি চালাতে শুরু করে। গুলিতে আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আসলাম। দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। আর আসলামের সঙ্গীরাও ওই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যান।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তিনটি গুলি লেগেছে আসলামের। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া ব্যারাকপুরের বিএন বসু হাসপাতালে। সেখান থেকে তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আসলামের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের পাশাপাশি এলাকায় তোলাবাজিরও অভিযোগ রয়েছে পুলিশ জানিয়েছে।
কেন এই হামলা, এই প্রশ্নের উত্তরে তদন্তকারীরা জানান, ওই এলাকায় মণ্ডলুয়া বলে এক দুষ্কৃতী আছে। তার বিরুদ্ধেও পুলিশের কাছে প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় জুয়া ও সাট্টার ঠেক চালানো ও ও টাকার ভাগাভাগি নিয়েই আসলাম ও মণ্ডলুয়ার দলের মধ্যে অনেকদিন ধরেই রেষারেষি রয়েছে। এই ঘটনা তারই ফল বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে গত দু’বছরের মধ্যে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব বেড়ে চলেছে। টিটাগড় থেকে কাঁচড়াপাড়া গোটা এলাকাতেই একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, পুলিশ বেশির ভাগ ঘটনারই কিনারা করতে পারেনি। সম্প্রতি ব্যারাকপুর সদর বাজারে তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে এক তৃণমূল নেতা ও পেশায় ব্যারাকপুর আদালতের আইনজীবীকে তাঁর নিজস্ব অফিসে ঢুকে গুলি করে পালায় দুষ্কৃতীরা। এখনও পর্যন্ত পুলিশ এই ঘটনায় কাউকে ধরতে পারেনি।
এর আগে পানিহাটির দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে দুষ্কৃতীরা আরেক তৃণমূল কর্মীকে খুন করে পালিয়ে যায়। ওই তৃণমূল নেতা এলাকায় সিন্ডিকেট ব্যবসা চালাতেন বলে অভিযোগ। দুই ঘটনাতেই পুলিশ এফআইআরে যে সব অভিযুক্তদের নাম রয়েছে তাদের বেশিরভাগকেই ধরতে পারেনি। ব্যারাকপুরের ঘটনায় উদ্ধার হয়নি অস্ত্রগুলিও।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় গজিয়ে উঠছে জমি থেকে শুরু করে ইট, কাঠ, বালি বিক্রির সিণ্ডিকেট ব্যবসা। সঙ্গে রয়েছে তোলাবাজিও। অভিযোগ, বেশিরভাগ দুষ্কৃতীই এলাকার রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকায় পুলিশ নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকছে। আর এতেই ঘটছে একের পর এক হিংসার ঘটনা।