বাড়ির একটি ঘর দীর্ঘক্ষণ ধরে তালা দেওয়া ছিল। পাশের ঘরে শাশুড়ি অবশ্য ছিলেন। কিন্তু গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয় বাড়ির বৌকে তো দেখা যাচ্ছে না। যে ঘর তালা বন্ধ সেই ঘরেই বৌ ছেলে থাকে। ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও ঘরের তালা খোলা না হওয়ায় গ্রামবাসীদের সন্দেহ বাড়তে থাকে। শাশুড়িকে কাছে বৌমার খোঁজ নিলেও শাশুড়ির সঠিক উত্তর দিকে পারেনি। ছেলেকেও দেখা যায়নি। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীরা তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখেন, বৌমা ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছেন।
খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে অশোকনগর থানার কাজলা এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত বধূর নাম দিপালী মজুমদার(২০)। শ্বশুরবাড়িতে অত্যাচারের কারণেই মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে দিপালীদেবীর বাবা ঝুটন মজুমদার শুক্রবার সকালে অশোকনগর থানার জামাই ও মেয়ের শাশুড়ির নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন। দু’জনেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধৃতদের নাম গোবিন্দ মজুমদার ও পারুলি মজুমদার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর খানেক আগে গোবিন্দের সঙ্গে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি থানা এলাকার বাসিন্দা দিপালীর বিয়ে হয়। বিয়েতে পণ হিসাবে সোনার গয়না নগদ টাকা ও আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই নানা কারণে শাশুড়ি ও স্বামী তার উপরে অত্যাচার করত। গোবিন্দ একটি এটিএম কাউন্টারের নিরাপত্তা রক্ষীর কাজ করে। বুধবার রাতে সে কাজে চলে যায়। তারপর থেকে ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। দিপালীদেবীর বাপের বাড়ির লোকেদের অনুমান তাকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হতে পারে। তার শরীরে আঘাতেরও চিহ্ন ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়না-তদন্তের রির্পোট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।