Advertisement
E-Paper

সহায়ক মূল্যে ধান কেনা হচ্ছে না, অভিযোগ চাষিদের

গরিব চাষিরা টাকার প্রয়োজনে ফড়েদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করে দিতেন। ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে চাষিরা চাষের খরচের টাকা কিংবা মহাজনের দেনা শোধ করতে না পেরে অনেকে আত্মঘাতী হতেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:৫৪

গরিব চাষিরা টাকার প্রয়োজনে ফড়েদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করে দিতেন। ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে চাষিরা চাষের খরচের টাকা কিংবা মহাজনের দেনা শোধ করতে না পেরে অনেকে আত্মঘাতী হতেন। এ সব রুখতে রাজ্য সরকার বারবার ঘোষণা করে, চাষিদের থেকে সহায়ক মূল্যে ধান কেনার কথা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ক্যানিং মহকুমায় সরকারি ভাবে সহায়ক মূল্যে চাষিদের থেকে ধান কেনার ব্যবস্থা হয়নি। চাষিদের অভিযোগ, বাসন্তী, গোসাবা, ক্যানিং-১ ও ২ ব্লকের কোথাও এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে ধান কেনার জন্য ক্যাম্প করা বা অন্য কোনও বন্দোবস্ত করা হয়নি।

ফড়েদের নিয়ন্ত্রণ থেকে চাষিদের মুক্ত করতে এবং চাষিরা যাতে ফসলের ন্যায্য দাম পায় সে জন্য রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে কিসান মান্ডি তৈরির কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ক্যানিংয়ের স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গোসাবা কৃষি-বাজারের শিলান্যাসও করেন তিনি। কিন্তু প্রায় তিন বছর হতে চলল, ওই কিসান মান্ডি তৈরি হয়নি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই প্রকল্প তৈরির কথা কৃষি বিপণন দফতরের। গোসাবার ওই কৃষি বাজার তৈরির জন্য প্রাথমিক ভাবে হ্যামিলটন ট্রাস্টের একটি জমি দেখা হয়েছিল। মাটির নমুনা পরীক্ষা করাও হয়েছিল। কিন্তু ব্যস ওইটুকুই!

ক্যানিং এলাকায় সে রকম কৃষি বাজার না থাকায় চাষিরা ফসল বাজারে বিক্রি করতে পারেন না। বাধ্য হয়েই মহাজন বা ফড়েদের কবলে পড়ে কম দামে বিক্রি করতে হয় ফসল। এই অবস্থায় সরকারি ঘোষণায় আশান্বিত হয়েছিলেন চাষিরা। কিন্তু এত দিনেও বাজার তৈরি না হওয়ায় হতাশ চাষি। উত্তম মণ্ডল, আলাউদ্দিন মোল্লারা বলেন, ‘‘সরকার বারবার ঘোষণা করছে, সহায়ক মূল্যে ধান কেনা হবে। কিন্তু কোথায় কী ভাবে সেই ধান কেনা হবে, তা নির্দিষ্ট করে প্রশাসনের কেউই বলছেন না। ভেবেছিলাম, সরকার ধান কিনলে অন্তত ফড়েদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। কিন্তু কোথায় কী? এখনও কোনও ব্যবস্থাই হল না।’’

Advertisement

ক্যানিং-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পরেশরাম দাস বলেন, ‘‘আমরা শীঘ্রই ক্যাম্প করে ধান কিনব। যাবতীয় উদ্যোগ করা হচ্ছে।’’ জেলাশাসক পিবি সেলিম বলেন, ‘‘বিভিন্ন রেজিস্টার্ড কো-অপারেটিভ সোসাইটির মাধ্যমে ধান কেনার ব্যবস্থা হয়েছে। যদি কোথাও কোনও সমস্যা থেকে থাকে, তা হলে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy