নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদে দুই গুদামে অগ্নিকাণ্ডের পরে দেড় মাস কেটে গিয়েছে। ঘটনায় নিখোঁজদের মধ্যে যাঁদের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও মেলেনি বা রিপোর্ট মিললেও দেহ পায়নি পরিবার, তাঁদের কয়েক জনের সৎকার বুধবার করা হল ধর্মীয় সংস্কার মেনে, কুশপুতুল দাহ করে।
গত ২৫ জানুয়ারি রাতের ওই অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের ২১ জন ও পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার তিন জন। পূর্ব মেদিনীপুরের নিখোঁজদের অধিকাংশই তমলুক, পাঁশকুড়া, ময়না, শহিদ মাতঙ্গিনী, নন্দকুমার ও সুতাহাটা ব্লক এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া দেহাংশ শনাক্ত করতে নিখোঁজদের পরিজনদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারি সেই পরীক্ষার রিপোর্ট আসা শুরু হয়। তার ভিত্তিতে ১৮ জনের দেহাংশ শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৫ জন, পিংলার দু’জন ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের এক জন আছেন।
পরে পুলিশের তরফে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৩ জন, পিংলার দু’জন ও বারুইপুরের এক জনের দেহাংশ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। হলদিয়ার সুতাহাটার নিখোঁজ দু’জনের দেহাংশ আরও কিছু পরীক্ষার পরে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখনও দেহাংশ মেলেনি। নিখোঁজ আরও ৬ জনের রিপোর্ট এখনও মেলেনি। নিখোঁজদের কয়েক জনের পরিবারই বুধবার ধর্মীয় সংস্কার মেনে কুশপুতুল দাহ করে প্রিয়জনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছেন। এঁদের মধ্যে তমলুকের শালিকা গড়চক গ্রামের গোবিন্দ মণ্ডল ও এক নাবালক রয়েছে। কুশপুতুল তৈরি করে শ্মশানেই দাহ করা হয়।
ওই অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ ছিলেন গোবিন্দ মণ্ডল ও তাঁর ভাইপো রামকৃষ্ণ মণ্ডল। রামকৃষ্ণের বাবা নিরঞ্জন মণ্ডল বলেন, ‘‘আমার ছেলে রামকৃষ্ণ ও ভাই গোবিন্দ নিখোঁজ ছিল। ডিএনএ পরীক্ষার আমার ছেলের দেহাংশ শনাক্ত হয়েছিল। তার সৎকার হয়েছে আগেই। কিন্তু ভাই গোবিন্দের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। ধর্মীয় রীতি মেনে ৪৫ দিন অপেক্ষা করার পরে ভাইয়ের আত্মার শান্তি কামনায় কুশপুতুল দাহ করে সৎকার করা হয়েছে। রীতি মেনে আমার ছেলে ও ভাইয়ের পারলৌকিক কাজও করা হবে।’’
একই পদ্ধতিতে শালিকা গড়চক গ্রামেরই এক নাবালকের পরিবারও কুশপুতুল দাহ করে সৎকার করেছে। ওই নাবালকের বাবা বলেন, ‘‘ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাইনি। তাই আজ কুশপুতুল দাহ করা হয়েছে।’’ নিখোঁজ হলদিয়ার সুতাহাটার সুব্রত খাঁড়া ও নন্টু খাঁড়ার পরিবার প্রশাসনের থেকে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পেলেও দেহ পায়নি। তারাও কয়েক দিন আগে কুশপুতুল দাহ করেছে ও পারলৌকিক কাজ করেছে।
সুব্রতর ভাই সৌমিত্র খাঁড়া ও নন্টুর দাদা বাপি খাঁড়া বলেন, ‘‘মৃতদেহ এখনও পাইনি। তাই গত বৃহস্পতিবার কুশপুতুল দাহ করার পরে পারলৌকিক কাজ সারা হয়েছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)