E-Paper

তিন মৃত্যুতে নাম জড়াল এসআইআর-প্রক্রিয়ার

এসআইআর-আতঙ্কে মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে সাকির শেখ (৫৫) নামে এক জনের মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। তাঁর দুই ভাইয়ের নামে শুনানির নোটিস ছিল। শুক্রবার রাতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৭

— প্রতীকী চিত্র।

তিনটি মৃত্যুতে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার নাম জড়াল।

এসআইআর-আতঙ্কে মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে সাকির শেখ (৫৫) নামে এক জনের মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। তাঁর দুই ভাইয়ের নামে শুনানির নোটিস ছিল। শুক্রবার রাতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। একই জেলার কান্দির মসলিম শেখের (৬১) শনিবার সকালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। তাঁর দুই ছেলের নামে শুনানির নোটিস ছিল। স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূলের পার্থপ্রতিম সরকারের দাবি, “এসআইআরের নামে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি মানুষকে হয়রান করছে।’’ বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিনীতা রায় বলেন, “এসআইআর-প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিজেপি যুক্ত নয়। নোংরা রাজনীতি করছে তৃণমূল।’’

এসআইআর-এর কাজে যাওয়ার পথে এ দিনই দুর্ঘটনায় ময়নাগুড়ি ব্লক অফিসের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর শম্পা রায়ের (২৮) মৃত্যুতেও এসআইআর-প্রক্রিয়ার দিকে আঙুল তুলেছে তৃণমূল। জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি জাতীয় সড়কের দশ দরগা এলাকায় ডাম্পারের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন স্কুটারে থাকা শম্পা ও তাঁর সহকর্মী পায়েল মোহন্ত। জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরা শম্পাকে মৃত ঘোষণা করেন। পায়েলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি সীমা চৌধুরী বলেন, “সকলকেই চাপ দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। কাজেরচাপে কারও মানসিক অবস্থা ভাল নেই। এই মৃত্যুর জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন।’’

একাধিক জেলায় শুনানিতে অসুস্থদের হয়রানির অভিযোগও অব্যাহত। মুখে অক্সিজেনের নল, টোটোয় অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে এ দিন বীরভূমের রামপুরহাট ২ ব্লক অফিসে শুনানিতে হাজিরা দেন ফুসফুসের সংক্রমণজনিত সমস্যায় ভোগা প্রৌঢ় জাহাঙ্গির হোসেন। বিডিও তাঁকে বাড়ি পাঠান। তবে কেন এমন রোগীকে শুনানিতে ডাকা হল, প্রশ্ন উঠেছে। প্রসবের পরে এ দিন দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সরাসরি শুনানি কেন্দ্রে এসেছিলেন মালদহের ইংরেজবাজারের বাসিন্দা চাঁদনি খাতুন। তাঁর ক্ষোভ, “অস্ত্রোপচারের যন্ত্রণা করছে। তবুও শুনানিতে আসতে হয়েছে।” পূর্ব বর্ধমানের মেমারি ১ ব্লকে শুনানিতে এসেছিলেন বছর সত্তরের শেখ মেহের আলি। গলায় ঝোলানো ‘নির্বাচন কমিশনকে জানাই ধিক্কার’ লেখা পোস্টার। তিনি জানান, সেরিব্রাল স্ট্রোকে ডান হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তাঁর কথায়, ‘‘আমার মতো মানুষকে শুনানিতে ডাকা কি উচিত হয়েছে? তাই এই পোস্টার।’’

দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন, বালুরঘাট, কুশমণ্ডি, উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে শুনানিতে জমা দেওয়া নথির রসিদ দেওয়া হয়নি, কোচবিহারের দিনহাটায় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে প্রামাণ্য নথি মানা হয়নি বলে অভিযোগ। কমিশনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগে মালদহে মিছিল করে তৃণমূল। যে সব ভোটার শুনানিতে বৈধ নথি জমা দিয়েছেন এবং তা যাচাই করে ‘আপলোড’ করা হয়েছে, ‘স্পেশাল চেকিং’-এর অজুহাতে তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, এমন অভিযোগ কংগ্রেসের। ওই ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া যাবে না দাবিতে এ দিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) কাছে লিখিত আর্জি জানায় তারা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Special Intensive Revision Deaths West Bengal SIR SIR hearing

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy