আর জি করে নির্যাতিতা ও নিহত চিকিৎসকের স্মৃতিতে হাসপাতাল করার জন্য কৃষ্ণনগরের কাছে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে জমি পছন্দ করে ফেললেন তাঁর বাবা-মা। নদিয়ার সদর শহর থেকে কম-বেশি দেড় কিলোমিটার দূরে, মায়াকোল এলাকায় ওই জমি ও একটি অর্ধনির্মিত বাড়ি তাঁদের বিনামূল্যে দিচ্ছেন কৃষ্ণনগরের প্রবীণ পুরপ্রতিনিধি অসিত সাহা।
জমি দেখতে গিয়ে শনিবার দুপুরে নিহত চিকিৎসকের মা বলেন, “আমার মেয়ে মানুষের সেবা করতে চেয়েছিল। সে সুযোগ ওকে যারা দিল না, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। সেই সঙ্গে মেয়ের জনসেবার সেই অপূর্ণ ইচ্ছাকে রূপ দিতেই এই উদ্যোগ।” চিকিৎসকের বাবা বলেন, “দেশ-বিদেশের বহু মানুষ আমাদের পাশে থাকতে চেয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন। আমরা আজ পর্যন্ত কারও কাছ থেকে কোনও সাহায্য নিইনি। সেই মানুষের সাহায্যেই এ বার এই হাসপাতাল গড়ে তুলব।”
জমি খোঁজার ব্যাপারে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন নদিয়ারই কৃষ্ণগঞ্জের বাসিন্দা তথা চিকিৎসকের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সমাজকর্মী স্বপন ভৌমিক। তিনি বলেন, “আগে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি বা আমাদের কৃষ্ণগঞ্জের মতো কিছু জায়গায় জমি দেখা হয়েছে। কিন্তু নানা কারণে সেগুলো নির্বাচিত হয়নি। কয়েক দিন আগে, অসিতবাবুর কাছে আর্জি জানাই।” কৃষ্ণনগরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল পুরপ্রতিনিধি অসিত সাহা বলেন, “এ ধরনের একটি উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার অনুরোধ পেয়ে দ্বিতীয় বার ভাবিনি। ওখানে মোট সাত শতক জমি এবং একটি অর্ধনির্মিত তিনতলা বাড়ি হাসপাতাল তৈরির জন্য ওঁদের দিচ্ছি।” চিকিৎসকের বাবা-মা জানান, সাত জনের একটি ‘ট্রাস্টি বোর্ড’ হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করবে এবং পরে তা পরিচালনা করবে। তাঁরা দু’জন ছাড়াও, তাঁদের এক নিকটাত্মীয়, স্বপন ভৌমিক, অসিত সাহা ও তাঁর পরিবারের দু’জন সেই বোর্ডে থাকছেন। ‘ট্রাস্টি বোর্ড’ গড়ার প্রাথমিক কাজও এ দিন শুরু হয়।
কলকাতায় ফিরে যাওয়ার আগে চিকিৎসকের বাবা-মা কৃষ্ণনগর আইএমএ ভবনে গিয়ে ডাক্তারদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সাহায্য চান। আইএমএ কৃষ্ণনগর শাখার সহ-সভাপতি অনির্বাণ জানা বলেন, “আমরা আর জি কর আন্দোলনের গোড়া থেকে পথে নেমেছি। ‘অভয়া ক্লিনিক’ নামে বিনামূল্যে একটি সাপ্তাহিক চিকিৎসা কেন্দ্রও চালাচ্ছি। তাঁর স্মৃতিতে যদি হাসপাতাল হয়, আমাদের অনেক সদস্যই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)