E-Paper

বাজেটের সুফল বঙ্গেও ফলবে, দাবি বিজেপির

চলতি বাজেটে পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চনার শিকার হয়েছে বলে তৃণমূল নেতৃত্ব যে অভিযোগ তুলেছেন, তা মিথ্যাচার বলে দাবি করছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য নেতৃত্বের মতে— জনচিত্ত জয় নয়, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই বাজেটে করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।

অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৮
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

নির্মলা সীতারামনের ভবিষ্যমুখী বাজেটের সুফল আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ পেতে চলেছে বলে দাবি করছেন রাজ্য বিজেপির একাংশ।

চলতি বাজেটে পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চনার শিকার হয়েছে বলে তৃণমূল নেতৃত্ব যে অভিযোগ তুলেছেন, তা মিথ্যাচার বলে দাবি করছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য নেতৃত্বের মতে— জনচিত্ত জয় নয়, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই বাজেটে করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সার্বিক ভাবে দেশের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্প সঠিক ভাবে রূপায়ণ হলেই তার ফায়দা রাজ্যবাসী পাবে বলে আজ দাবি করেন শমীক।

শমীক বলেন, ‘‘মেডিক্যাল পর্যটন বাড়লে সবথেকে বেশি লাভ হবে কলকাতার। একই ভাবে জরাগ্রস্ত শিল্প নতুন করে চাঙ্গা করে তোলার পরিকল্পনা হয়েছে। যাতে রাজ্যের চামড়া, চট, বস্ত্রশিল্পের লাভ হবে।’’ শুধু তাই নয়। বিজেপির দাবি, পানিহাটিতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফার্মাসিউটিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে (এনআইপিইআর) বিনিয়োগ বাড়ছে। টি (চা) বোর্ডের জন্য বর্তমান বাজেটে প্রায় ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রী চা-শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনা’র আওতায় চা-বাগান মালিকদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে। শমীকের অভিযোগ, অসম সরকার ওই প্রকল্পের মাধ্যমে চা শিল্পকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করে চলেছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে তৃণমূল সরকার ওই সহায়তা নিতে অস্বীকার করছে। কেন্দ্রীয় অর্থে ঝাড়গ্রাম ও পূর্ব মেদিনীপুরে ২৮টি নবোদয় বিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে বলেও দাবি করেছেন শমীক। গত বারের চেয়ে কম হলেও, এ যাত্রায় মেট্রোর জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২,১৩৫ কোটি টাকা। শমীকের কথায়, ‘‘এর পরেও যদি তৃণমূল নেতৃত্ব বঞ্চনার দাবি তোলেন, তা হলে তা মিথ্যাচার ছাড়া কিছু নয়।’’

রেলের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের প্রতি পক্ষপাতিত্ব মনোভাব দেখিয়ে বঞ্চনার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা মানতে চাননি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও। আজ তিনি বলেন, এ বছর বাজেটে ১৪২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের জন্য। রেলমন্ত্রীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় এক ডজন নতুন ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যার মধ্যে ন’টি বন্দে ভারত ট্রেন। আজ অশ্বিনী বলেন, ‘‘এ বারের বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হল বারাণসী-শিলিগুড়ি বুলেট ট্রেন। যা ভায়া পটনা হয়ে শিলিগুড়ি যাবে। ওই করিডর পরে গুয়াহাটি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।’’ অশ্বিনী একে বুলেট ট্রেন বললেও, নির্মলা অবশ্য আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বুলেট নয়, এগুলি হাই স্পিড ট্রেন। তার সর্ব্বোচ্চ গতি হবে ৩৫০ কিলোমিটারের কাছাকাছি, ছুটবে এলিভেটেড ট্র্যাক দিয়ে। তার জন্য আলাদা করে লাইন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে কলকাতায় মেট্রো রেলের কাজ থমকে রয়েছে বলেও আজ দাবি করেছেন অশ্বিনী। তিনি বলেন, ‘‘হাই কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার অভাবে চিংড়িহাটায় মেট্রোর কাজ করা যাচ্ছে না। রাজ্যের উচিত আগে সেই সমস্যা মেটানো।’’

তবে গত বারের বিহারের ধাঁচে যে পশ্চিমবঙ্গের কপালে শিকে ছেঁড়েনি চলতি বাজেটে, তা ঘরোয়া ভাবে মেনে নিচ্ছেন বঙ্গ বিজেপির প্রায় সব সাংসদই। অধিকাংশেরই বক্তব্য, ভোটমুখী বছরে বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের উপস্থিতি আরও স্পষ্ট ভাবে থাকা উচিত ছিল। সে ক্ষেত্রে রাজ্যবাসীর কাছে বুক ঠুকে প্রচারে যাওয়া সম্ভব হত। তবে একই সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্ব বলছেন, বাজেটই সব নয়। সব কিছু বাজেটে ঘোষণা করতে হবে এমনও নয়। এখনও ভাল করে পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে নামেনি দল। প্রধানমন্ত্রীর একাধিক সভা বাকি রয়েছে। রাজ্যের উন্নতির লক্ষ্যে সেই সব সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত ভাবে বড় মাপের কিছু ঘোষণা করবেন বলে ধরেনেওয়া যায়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Nirmala Sitharaman West Bengal government West Bengal BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy