E-Paper
WBState_Assembly_Elections_Lead0_04-05-26

বাংলাদেশি তকমায় আনাজ বিক্রেতাকে হেনস্থা, গ্রেফতার যুবক

সাম্প্রতিক অতীতে কিন্তু গোষ্ঠী বিবাদে ইন্ধন বা সংখ্যালঘুদের উপরে হামলার ঘটনায় বেশ কিছু মামলাতেই পুলিশের তরফে ঢিলেমি দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তেরা সহজেই জামিন পান।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ মে ২০২৬ ০৬:০৩

—প্রতীকী চিত্র।

খাস কলকাতার বুকে ফল, আনাজ ফেরি করতে এসে ‘বাংলাদেশি’ না ‘ভারতীয়’ প্রমাণ দিতে হচ্ছে শহর লাগোয়া মফস্সলের ‘দিন আনি-দিন খাই’ গরিব মানুষকে। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের প্রাক্কালে এমন অভিযোগ সামনে আসার পরে পদক্ষেপ করেছে স্থানীয় পুলিশ। কলকাতার তেঘরিয়ায় ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ভাঙড়ের জিরেনগাছার সাদ্দাম হোসেন নামের আনাজ বিক্রেতাকে শনিবার হেনস্থার অভিযোগ ওঠার পরে এক যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গৌতম পাঠক নামে স্থানীয় ওই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে ঘা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।

সাম্প্রতিক অতীতে কিন্তু গোষ্ঠী বিবাদে ইন্ধন বা সংখ্যালঘুদের উপরে হামলার ঘটনায় বেশ কিছু মামলাতেই পুলিশের তরফে ঢিলেমি দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তেরা সহজেই জামিন পান। এই ধরনের অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টায় বার বারই কড়া পুলিশি পদক্ষেপে খামতির অভিযোগ উঠেছে। এ দিন ভোট গণনা নিয়ে চর্চার আবহে পুলিশ অবশ্য তেঘরিয়ার ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করতে চায়নি। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেন ভাঙড়ের ‘আক্রান্ত’ আনাজ বিক্রেতা। তিনি এ দিন বলেন, “ওই এলাকায় যে-হেতু আমি ব্যবসা করি, আমি কিন্তু থানায় কোনও অভিযোগ জানাইনি। শুধু স্থানীয় ক্লাবকে সব বলেছিলাম। ক্লাবের সদস্যেরাই সব ব্যবস্থা করেছেন।”

শনিবার তেঘরিয়ায় লোকনাথ মন্দিরের কাছে আনাজ বিক্রি করার সময় ওই বিক্রেতাকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্থা করা ও তাঁর পসরার আনাজ ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। সাদ্দাম স্থানীয় ক্লাবে পুরো বিষয়টি জানান। ক্লাবের সদস্যেরাই পুলিশের দ্বারস্থ হন।

এর আগে শুক্রবার একই রকম সন্দেহে ভাঙড়ের গুছুড়িয়া এলাকার ফল বিক্রেতা এনামুল ইসলামকেও তেঘরিয়ায় ওই একই জায়গায় হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তিনিও পুলিশকে কিছু জানাননি। তিনি বলেন, “ওই ঘটনার পর থেকে বাড়ির লোক জন আমায় ওই এলাকায় ব্যবসা করতে যেতে দিতে চাইছে না। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করলে ভাল হয়।”

খাস পশ্চিমবঙ্গে বহু বছরের বাসিন্দা বাঙালি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের এই নিরাপত্তার অভাব উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করেন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন অনেকেই।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Harrasment

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy