দুর্নীতিগ্রস্তদের আড়াল করতেই কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি একই দলের সরকার চাইছে বলে অভিযোগ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তিনি বলেন, ‘‘কেন ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রয়োজন? চুরি করলে যাতে চোরেরা ধরা না পড়ে, তার জন্য?’’ বহিরাগত তত্ত্বের সমর্থনে বিজেপিকে গুটখা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া নেতাদের প্রায় সবাই কেন্দ্রে ও রাজ্যে এক দলের সরকার চেয়ে সওয়াল করছেন। একই দলের সরকার হলে উন্নয়নের কাজ মসৃণ হয়, এই যুক্তিতে শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়েরাও ‘ডাবল ইঞ্জিন’ চাইছেন। এ দিন সেই দাবিকে নস্যাৎ করে অভিষেক বলেন, ‘‘মমতার একটি ইঞ্জিনের সঙ্গে লড়াই করতে বিজেপিকে তো ৫০০ ইঞ্জিন পাঠাতে হচ্ছে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘এখন গাড়ির স্টিয়ারিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। গোটা বিজেপির বিপরীতে একা মমতা দুর্গার প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। মহিষাসুর বধ এখন সময়ের অপেক্ষা।’’
অভিষেকের অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বলেন, ‘‘আমরা ডাবল ইঞ্জিনের সরকার চাই। কেন্দ্র ও রাজ্যে এক দলের সরকার হলে মানুষ সব প্রকল্পের সুবিধা পাবে। শুধু রাজনীতির স্বার্থে কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাত চাই না।’’
বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি জানে না বলে অভিযোগ করে অভিষেক বলেন, ‘‘যারা ‘সুনার বাংলা’ বলেন, তাঁরা ‘সোনার বাংলা’ তৈরি করবেন! উত্তরপ্রদেশের গুটখার থুতুতে বাংলার বিশুদ্ধ লোহায় জং পড়বে না।’’ এ দিনই বাংলার সংস্কৃতি ধ্বংসের অভিযোগে বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমে এক কর্মিসভায় তিনি বলেন, ‘‘এ বারের নির্বাচন সাদামাঠা নির্বাচন নয়। বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি, যুব-ছাত্রদের স্বপ্নকে নষ্ট করে দিতে চাইছে। তাদের প্রতিহত করতে হবে।’’
‘দিদির দূত’ নামে একটি অ্যাপের প্রচারে এ দিন কামালগাজি থেকে সোনারপুর পর্যন্ত রোড শো-ও করেন অভিষেক। সেখানে বামেদের আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, ‘‘এ বার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি আসনই আমাদের। যাদবপুরে সুজন চক্রবর্তী তো হাওয়া হয়ে যাবেন। আর কুলতলিও বড় ব্যবধানে জিতব।’’ যাদবপুরের বিধায়ক তথা সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী অবশ্য বলেন, ‘‘অনেক বড় জাদুকর তিনি (অভিষেক)। অনেককে হাওয়া করতে পারেন। তবে বাংলার মানুষের শক্তিকে এত দুর্বল ভাববেন না।’’