Advertisement
E-Paper

মহারাষ্ট্রে গ্রেফতার হওয়া সুকান্তের এলাকার শ্রমিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ অভিষেকের, সঙ্গে নিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতাকে

বালুরঘাটে দুই পরিযায়ী শ্রমিককে দু’পাশে দাঁড় করিয়ে অভিষেক বলেন, “সাত মাস ধরে এঁদের জেলে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল। আমরা জানতে পেরে কাঠখড় পুড়িয়ে ফিরিয়ে এনেছি।” তার পরেই তিনি বলেন, “মহারাষ্ট্রে তো বিজেপি, কিন্তু সুকান্ত মজুমদার কিছু করেননি।”

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫২
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

বাংলাদেশি সন্দেহে বালুরঘাটের দুই পরিযায়ী শ্রমিককে মহারাষ্ট্রে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। বুধবার বালুরঘাট মহকুমার তপনে ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে নিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা পুলক চক্রবর্তীকেও। অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়ে ওই দুই পরিযায়ী শ্রমিক জানালেন, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের জন্যই তাঁরা জেল থেকে বার হতে পেরেছেন। তার জন্য অভিষেক ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে ধন্যবাদ জানান তাঁরা।

দীর্ঘ দিন মহারাষ্ট্রে কাজ করতেন বালুরঘাটের দুই পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকার এব‌ং গৌতম বর্মণ। গৌতম গঙ্গারামপুর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা। ২০১৯ সালে তিনি বিজেপির বুথ সভাপতি ছিলেন। তাঁর স্ত্রী জানিয়েছেন, স্বামীকে জেলমুক্ত করতে বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। তার পরেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। এই সূত্রে সুকান্তকে আক্রমণ করেন অভিষেক। অসিত এবং গৌতমকে দু’পাশে দাঁড় করিয়ে তিনি বলেন, “সাত মাস ধরে এঁদের জেলে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল। আমরা জানতে পেরে কাঠখড় পুড়িয়ে ফিরিয়ে এনেছি।” তার পরেই তিনি বলেন, “মহারাষ্ট্রে তো বিজেপি, কিন্তু সুকান্ত মজুমদার কিছু করেননি।”

অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়ে অসিত এবং গৌতম জানান, তাঁরা প্রায় ২০ বছর মহারাষ্ট্রে কাজ করছেন। কিন্তু বাংলায় কথা বলার জন্য তাঁদের গ্রেফতার করে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের কথার সূত্র ধরেই অভিষেকের কটাক্ষ, “বাংলায় কথা বললে কেউ যদি বাংলাদেশি হয়, তা হলে তো সুকান্ত মজুমদারও বাংলাদেশি।” অসিত এবং গৌতমের দিকে দেখিয়ে অভিষেক বলেন, “বাংলায় কথা বলে এরা সাত মাস জেলে থাকলে সুকান্ত মজুমদার কেন থাকবেন না?” নিজের সংসদীয় এলাকার মানুষ ‘বিনা অপরাধে’ জেলে থাকলেও কেন সুকান্ত তাঁদের ফেরাতে উদ্যোগী হলেন না, সেই প্রশ্নও তোলেন অভিষেক।

তপন বিধানসভার লক্ষ্মীপুর গ্রামে অসিতের বাড়িতে অভিষেকের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা পুলক চক্রবর্তী। তিনি জানান, অসিতদের ছাড়িয়ে আনতে তিনি বেশ কয়েক বার সুকান্তের সঙ্গে দেখা করেছেন। কিন্তু প্রতি বারই ‘দেখছি’ বা ‘চেষ্টা করছি’র বেশি কিছু বলা হয়নি বলে জানান তিনি। তার পরেই তিনি এই বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানান পুলক।

ইটাহারে রোড শো করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

ইটাহারে রোড শো করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

সুকান্তকে ‘স্টপেজ মিনিস্টার’ বলে কটাক্ষ করেন অভিষেক। বলেন, “এখানে তৃণমূল-বিজেপি কিসের? রাজনীতি করা মানে তো মানুষের পাশে দাঁড়ানো। যাঁরা আপনাকে জিতিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব, কর্তব্য নেই?” সুকান্তর উদ্দেশে অভিষেক আরও বলেন যে, “জেলার উন্নয়নের জন্য আপনি কী কাজ করেছেন, তা মানুষ জানতে চায়। রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করুন। আপনি শুধু ট্রেনের স্টপেজ তৈরি করতে জানেন। আপনাকে র‌্যাম্পে হাঁটার জন্য আর ট্রেনের স্টপেজ তৈরি করার জন্য মানুষ ভোট দেয়নি।” আসানসোলে একটি সভা থেকে সুকান্ত পাল্টা বলেন, ‘‘আমি প্রতি দিন বলছি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম কয়লা কেলেঙ্কারি, গরু পাচারে আছে। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দম হল না একটা কথা বলতে যে সুকান্ত মজুমদার দুর্নীতি করেছে, অমুকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে।’’

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়েও ফের বিজেপিকে আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “বাংলায় জিততে না-পেরে এসআইআরের নামে মানুষকে হেনস্থা করছে।” বিজেপির উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, বাংলায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের কত জন বাংলাদেশি, আর কত জন রোহিঙ্গা? এসআইআরের জন্য দু’মাসে ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান অভিষেক। তাঁর প্রশ্ন, “এই মৃত্যুর দায় কার? বাংলার উপর কিসের এত রাগ বা অবজ্ঞা?”

বিকেলে ইটাহারে রোড শো করেন অভিষেক। গাড়ির ছাদে উঠে বক্তৃতা করেন তিনি। সেখানেও বিজেপিকে আক্রমণ শানান তিনি। বলেন, “বিজেপিকে শুধু নির্বাচনে হারালে চলবে না, বুথ থেকেও উৎখাত করতে হবে।”

migrant worker Balurghat Sukanta Majumdar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy