সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) দেওয়ার কাজ শুরু করেছে নবান্ন। শুক্রবার থেকে সেই কাজ গতি পেতে শুরু করেছে বলে খবর। সরাসরি ডিএ-র অর্থ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাওয়া শুরু করেছে। কিন্তু ডিএ দেওয়ার ক্ষেত্রে পদ্ধতি এবং পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলি। তাদের অভিযোগ, দেশের সর্বোচ্চ আদালত ডিএ দেওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্ত বিষয়ে রাজ্য সরকারকে নজর দিতে বলেছিল এ ক্ষেত্রে তেমনটা করা হচ্ছে না। অভিযোগ, পোর্টাল খুলে সমস্ত সরকারি কর্মচারীর বকেয়া ডিয়ের পরিমাণ জেনে নেওয়ার পরেও রাজ্য সরকার ডিএ-র পরিমাণ অনেকটাই কম দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে আগামী ৩১ মার্চ রাজ্য সরকারকে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ প্রথম কিস্তি দিয়ে দিতে হবে। পরবর্তী কিস্তি দিতে হবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে। সেই পদক্ষেপে চলতি সপ্তাহেই একটি পোর্টাল চালু করে অর্থ দফতর। সেই পোর্টালে সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের বকেয়া ডিএ-র পাওনার হিসাবে আপলোড করতে শুরু করেছেন বলেই খবর। এ ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র হিসাব পোর্টালে আপলোড করা হয়। এই পদক্ষেপের পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (এসওপি) জারি করা হয়। তার পরেই এ বিষয়ে সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিএ-র টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে।
তবে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির অভিযোগ ডিএ দেওয়ার ক্ষেত্রে পদ্ধতি এবং পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। সিপিএমের সরকারি কর্মচারী সংগঠন কো অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী বলেন, ‘‘নিয়ম অনুযায়ী ‘অল ইন্ডিয়া কনজ়িউমার ইনডেক্স’ মেনে ডিএ দিতে হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমরা লক্ষ করছি, সেই নিয়ম মানা হয়নি। এ ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার আমাদের সঙ্গে তঞ্চকতা করছে। সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী এবং পঞ্চায়েত, পুরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সংস্থার অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের রোপা-২০০৯ অনুযায়ী ডিএ দেওয়া হবে। তাই এমন সব ত্রুটি দেখে আমরা অর্থ দফতরকে চিঠি দেব।’’
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘৩১ মার্চের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিএ-র টাকা ঢোকানোর জন্য শনিবার-রবিবারও নবান্ন খোলা রাখা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা দফতর-সহ বাকি দফতরগুলির কোনও হেলদোল নেই। তার মানে সরকারই চাইছে প্রায় সিংহভাগ কর্মী যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না পান। এটা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে শুধু চ্যালেঞ্জ করা নয়, বাকি কর্মীদের প্রতি সরকারের উদাসীন মনোভাব স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠছে। সরকারপন্থী শিক্ষক শিক্ষাকর্মী ও কর্মচারীরা এটা কবে বুঝবেন!’’ তৃণমূল সমর্থিত সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক বলেন, ‘‘বিরোধী সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলি শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের বিভ্রান্ত করে চলেছেন। আসলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকার ডিএ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যে নির্দেশিকা তিনটি জারি করছে, সেগুলি তারা সম্ভবত পড়ে দেখেননি। সেখানে স্পষ্ট লেখা হয়েছে, কিসের ভিত্তিতে এই ডিএ দেওয়া হচ্ছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী এবং পঞ্চায়েত, পুরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সংস্থার অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ডিএ দেওয়া হবে না বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা-ও ভুল। পঞ্চায়েত দফতর হিসাব কষে তাদের ফাইল অর্থ দফতরে পাঠিয়েছে। অন্য দফতরগুলিও তাদের কাজ শেষ করে ফাইল অর্থ দফতরে পাঠালে, সেগুলির অনুমোদন হয়ে গেলেই সেখানকার কর্মচারীরাও ডিএ পাবেন। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মচারী দরদি, তাই তো তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা সত্ত্বেও নিজের প্রতিশ্রুতি এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ডিএ দেওয়া শুরু করেছেন।’’