ঘরের কাছে নাজিরাবাদে আগুনে পুড়ে এত শ্রমিকের মৃত্যুর পরেও সেখানে না-গিয়ে দিল্লি চলে যাওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। ঘটনাস্থলে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ ও বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন তিনি। একই দিনে শুরু হওয়া বিধানসভার অধিবেশনে শোক-প্রস্তাবে নাজিরাবাদের আগুনে মৃতদের কথা উল্লেখ না-থাকায় প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।
নাজিরাবাদের অগ্নিদগ্ধ গুদাম পরিদর্শন করতে মঙ্গলবার দুপুরে পৌঁছেছিলেন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর। সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। এলাকা ঘুরে অধীর বলেন, “কলকাতার বুকে, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছে এরকম একটা ঘটনায় বাংলার এত মানুষ মারা গেলেন। মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে কালো চাদর গায়ে ঘুরে, সার্কাস করে নাজিরাবাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন! ওঁর তো আগে এখানে এসে শোকপ্রকাশ করা উচিত ছিল। আসলে দিল্লি গিয়েছেন রাজনৈতিক ফায়দার জন্য, এখানে সেটা হওয়ার নেই। তাই এত মৃত্যুর পরেও আসেননি।’’ প্রাক্তন সাংসদের আরও বক্তব্য, ‘‘ভয়াবহ ঘটনা। গুদামে কত জন কর্মচারী ছিলেন, তার হিসেব নেই। বহু মানুষের মৃত্যুর পরে এই সব জতুগৃহের কথা জানা যায়। আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কলকাতার বুকে আগেও এ রকম ঘটনা ঘটেছে। সরকার এ সব থেকে শিক্ষা নেয় না। সরকার সচেতন হলে নাজিরাবাদের ঘটনা ঘটত না।” ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করে অধীর বলেছেন, “অপরাধীরা সরকারি মদত পেয়েছে। সরকারি মদত ছাড়া এটা হতে পারে না। পূর্ণ, নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।” মৃত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ অবশ্য বলেছেন, ‘‘প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি (শুভঙ্কর সরকার) ঘটনাস্থল ঘুরে আসার পরে দলে সমান্তরাল জায়গা রাখতে অধীরবাবু প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছেন। অধীরবাবুর মতামতের সঙ্গে নাজিরাবাদের কোনও সম্পর্ক নেই।’’
বিধানসভায় এ দিন যে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, সেখানে নাজিরাবাদের প্রসঙ্গ ছিল না। ময়নার বিজেপির বিধায়ক অশোক দিন্দার প্রশ্ন, ‘‘বাংলাদেশের খালেদা জিয়ার জন্য শোক প্রকাশ করা হচ্ছে আর আমাদের রাজ্যের এত জন শ্রমিকের জন্য শোক পালন হবে না?’’ প্রসঙ্গত, নাজিরাবাদের গুদামে কর্মরতদের মধ্যে অশোকের বিধানসভা এলাকা ময়নার বেশ কিছু বাসিন্দা ছিলেন।
জাতীয় মানবাধিকার সংগঠনের এক প্রতিনিধিদলও এ দিন এলাকায় এসেছিল। সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ তারা দগ্ধ গুদাম চত্বরে ঢোকেন। ঘণ্টাতিনেক ছিলেন তাঁরা। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে নানা তথ্য নিলেও প্রকাশ্যে তাঁরা কিছু বলেননি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)