আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যে কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্য সরকারকে ধারাবাহিক ভাবে নিশানা করার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচি নিচ্ছে বিরোধীরা। এ বার দলের যুব মোর্চার ‘চাকরি চায় বাংলা’ কর্মসূচি থেকে কর্মসংস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি পূরণ না-করার অভিযোগে সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পক্ষান্তরে, কর্মসংস্থান নিয়ে কেন্দ্রকে পাল্টা নিশানা করেছে তৃণমূল কংগ্রেসও।
কর্মসংস্থানের দাবিতে রাজ্য জুড়ে মোর্চা ‘চাকরি চায় বাংলা’ কর্মসূচি করছে মোর্চা। তারই অংশ হিসাবে মঙ্গলবার ধর্মতলায় ওই কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বিরোধী নেতা বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী ‘এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক’ তৈরি এবং সেখানে যাঁরা নাম লেখাবেন, তাঁদের মাসে ১৫০০ টাকা দেওয়া, সেখান থেকে চাকরি হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ব্যবস্থাটাই উঠে গিয়েছে। ২০১৬, ২০২১-এ ভোটের আগে মাত্র দু’বার ১৫০০ টাকা বেকার ভাতা দেওয়া হয়েছিল।”
পাশাপাশি, রাজ্য থেকে কতগুলি শিল্প সংস্থা চলে গিয়েছে, তার পরিসংখ্যান দিয়ে ফের সিঙ্গুর থেকে টাটাদের চলে যাওয়া নিয়ে মমতাকে দায়ী করেছেন শুভেন্দু। তাঁর সংযোজন, “মুখ্যমন্ত্রী ২০২১-এর ভোটের আগে বলেছিলেন ডাব্ল চাকরি হবে। আদতে হয়েছে, ভিলেজ পুলিশ, সিভিক ভলান্টিয়ার-সহ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। স্থায়ী পদে স্থায়ী নিয়োগ নেই।” আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী, মনোজ পন্থদের মতো প্রাক্তন আমলাদেরই এই রাজ্যে ডাব্ল চাকরি হয়েছে বলে কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু। ধর্মতলার কর্মসূচিতে ছিলেন যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ, দলের নেতা তমোঘ্ন ঘোষ, মিনাদেবী পুরোহিত প্রমুখ। প্রসঙ্গত, সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই-ও ইতিমধ্যে ‘শিল্প চাই, কাজ চাই, বাম পথে বাংলা চাই’ স্লোগান তুলে রাজ্য জুড়ে কর্মসংস্থানের দাবিতে মিছিল, সমাবেশ, বিক্ষোভ করেছে।
দেশের কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে পাল্টা সরব হয়েছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, “দেশে অজস্র কারখানা বন্ধ। দেশ জুড়ে যখন বেকারত্বের হার চূড়ান্ত, তখন একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থানের হার ঊর্ধ্বমুখী। নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার আগে বছরে দু’কোটি চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেই হিসাবে ১২ বছরে ২৪ কোটি চাকরি হওয়ার কথা। বিরোধী নেতা বলুন, কাঁথিতে ওঁর পাড়ায় কত জনের চাকরি হয়েছে!”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)