E-Paper

বেতন নেই এক বছরের বেশি, ঝুলন্ত দেহ মিলল পরিবহণ নিগমের ঠিকা কর্মীর

একটি আবাসনে কয়েক বছর আগে শঙ্খের বাবা একটি ফ্ল্যাট কেনেন বলে খবর। বাবার মৃত্যুরপরে ঋণ মেটানোর চাপ শঙ্খের উপরেই ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্য এবং সহকর্মীদের একাংশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১০

—প্রতীকী চিত্র।

দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের ধর্মতলার কাউন্টার থেকে মাসেপ্রায় এক কোটি ২০ লক্ষ টাকার টিকিট বিক্রি করেও এক বছরের বেশিসময় ধরে বেতন পাচ্ছেন না ২১ জন ঠিকা কর্মী। ঋণের বোঝা সইতে না পেরে তাঁদেরই এক জন, শঙ্খঅগোস্তি (৩১) সোমবার রাতে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। শঙ্খের বাড়ি উত্তরপাড়ারভদ্রকালীর ১৯ নম্বর শিবতলা লেনে।

ওই এলাকার একটি আবাসনে কয়েক বছর আগে শঙ্খের বাবা একটি ফ্ল্যাট কেনেন বলে খবর। বাবার মৃত্যুরপরে ঋণ মেটানোর চাপ শঙ্খের উপরেই ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্য এবং সহকর্মীদের একাংশ। বাড়িতে মা ছাড়াও তাঁর স্ত্রী ও চার বছরের শিশুপুত্র রয়েছে। বছরখানেক ধরে তীব্র আর্থিক অনটনের মধ্যে স্ত্রী পূজা ও শিশুপুত্রকে নিয়ে বরাহনগরে বাবার বাড়িতে থাকছিলেন শঙ্খ। সোমবাররাতে শঙ্খ বাড়িতে মায়ের সঙ্গে ছিলেন। রাতে মাকে ঘুমোতে বলে খাওয়ার ঘরে জোরে টিভি চালিয়ে বসে ছিলেন তিনি। পরে তাঁরঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতেরমামাতো ভাই অনিকেত চক্রবর্তী এ দিন বলেন, ‘‘বেতন না পাওয়ায় আর্থিক অনিশ্চয়তা চরমে পৌঁছেছিল। তার মধ্যে ঋণের কিস্তি বাকি পড়ানিয়ে অবসাদে ভুগছিল দাদা।’’এ দিন শ্রীরামপুরের ওয়ালশ হাসপাতালে ওই কর্মীর দেহের ময়না তদন্ত হয়।

দীর্ঘ দিন ধরে এসবিএসটিসি-র টিকিট বিক্রির দায়িত্বে ছিল একটি বেসরকারি সংস্থা। তাদের ধর্মতলা, আসানসোল, দুর্গাপুরের টিকিট বুকিং কাউন্টারে ওই বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা টিকিট বিক্রির কাজ করতেন। বছরখানেক আগে সফটওয়্যার জালিয়াতি করে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের অভিযোগ ওঠে ওই সংস্থারবিরুদ্ধে। তার পরেই তাদের বাতিল করা হয়। দরপত্র ডেকে নতুন সংস্থাকে বরাত দেওয়া হবে বলে জানানসংস্থার শীর্ষ আধিকারিকেরা। নতুন সংস্থা কাজে নিযুক্ত হলে আগের সংস্থার কর্মীরাও সেখানে সুযোগ পাবেন, এই আশ্বাসে কর্মীরা তিন জায়গাতেই কাজ করছিলেন বলে খবর। সম্প্রতি দুর্গাপুর,আসানসোল-সহ কয়েকটি জায়গায় টিকিট বিক্রির পরিমাণ কমে যাওয়া ছাড়াও নানা কারণে ওই কর্মীদের কাজে আসতে নিষেধ করে দেওয়া হয়। নতুন সংস্থা এলে তাঁদের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হবে বলে জানানো হয়।

ধর্মতলায় কাজের চাপ বেশি থাকার পাশাপাশি, কর্মী কম থাকায় কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে ওই২১ জন কর্মী বেতন ছাড়াই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে খবর। ভবিষ্যতে কোনও সংস্থা দায়িত্ব নিলে তাঁদের সমস্যার সুরাহা হবে, এইআশাতেই কর্মীরা দূর-দূরান্ত থেকে কাজে আসছেন বলে জানা গিয়েছে। কাজের সময়ের পরে অনেকে বিভিন্ন হোম ডেলিভারি সংস্থায় কাজকরে কোনও মতে সংসার চালাচ্ছেন বলে খবর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকএক কর্মী বলেন, ‘‘প্রায় ১০ বছর ধরে কাজ করছি। বয়স চল্লিশের কোঠা পেরিয়ে গিয়েছে। এখন কোথায় যাব?’’

ওই কর্মীদের দুরবস্থা এবং কেন দরপত্র ডেকে নতুন সংস্থা নিয়োগকরা হচ্ছে না, সে সম্পর্কে জানতে চেয়ে এসবিএসটিসি-র চেয়ারম্যান সুভাষ মণ্ডলকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

police investigation Death

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy