E-Paper

লোকায়ুক্তের ‘ঠেলায়’ সক্রিয় হচ্ছে প্রশাসন

সূত্রের দাবি, রাজ্য প্রশাসনের বহু অফিসারই ‘কর্তব্যে অবহেলা’ করেন। বহু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত হয়েও পদক্ষেপে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকেন। তা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ আছে।

কুন্তক চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ০৮:০০

—প্রতীকী চিত্র।

এক বছরে রাজ্যের লোকায়ুক্তের দফতরে অভিযোগ জমা পড়েছিল ৭৭টি। তার মধ্যে প্রায় ৫০টির নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর, প্রায় সব ক্ষেত্রেই লোকায়ুক্তের দফতরে অভিযোগ জমা পড়া বা দফতর থেকে রিপোর্ট তলব করার পরেই নড়ে বসেছে প্রশাসন। যে কাজ না-হওয়ায় নাগরিকেরা লোকায়ুক্তের দফতরে এসেছিলেন, তা মিটে গিয়েছে। তার ফলে লোকায়ুক্তকেও সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়নি। তবে অনেকের প্রশ্ন, যদি তড়িঘড়ি নাগরিকদের কাজ করা যেত, তা হলে কেন বসে ছিলেন সরকারি অফিসারেরা? তবে কি শাস্তির ভয়েই একমাত্র নড়বেন প্রশাসনের কর্তারা?

প্রশাসনের এই নড়ে বসার উদাহরণ হিসেবে দু’টি অভিযোগের কথা লোকায়ুক্ত দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, শিলিগুড়ির দেশবন্ধু পাড়ার বাসিন্দা অনুষ্টুপ দত্ত অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁর বাবা এক ব্যক্তিকে গ্যারাজ ভাড়া দিয়েছিলেন। সেই ব্যক্তি গ্যারাজে সেলুন খুলে বসেছেন। এই অভিযোগে তিনি শিলিগুড়ি পুর নিগমে অভিযোগ জানালেও পুর-কমিশনার কোনও পদক্ষেপ করেননি। এই অভিযোগ পেয়ে লোকায়ুক্ত বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্ত শিলিগুড়ির এসডিও-র কাছে রিপোর্ট তলব করেন। সূত্রের দাবি, ওই রিপোর্ট তলবের পরেই এসডিও জানান যে পুরসভা পদক্ষেপ করে ওই সেলুন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ দিকে হাওড়ার এক মহিলা লোকায়ুক্তে অভিযোগ জানিয়ে বলেছিলেন যেতাঁর ছেলেকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে, এই অভিযোগ জানানোর পরেও পুলিশ সক্রিয় হয়নি। কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, শিশুটির গোপন জবানবন্দি নথিবদ্ধ করা হয়নি। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেও লোকায়ুক্ত হাওড়ার পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেন। সূত্রের খবর, ওই রিপোর্ট তলবের পরেই পুলিশ এই ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতার করে এবং বিচারকের কাছে শিশুটির গোপন জবানবন্দি নথিবদ্ধ করায়। হাওড়ার পুলিশ কমিশনার রিপোর্ট দিয়ে লোকায়ুক্তকে এ কথা জানান। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ওই মহিলার অভিযোগেরও নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের দাবি, রাজ্য প্রশাসনের বহু অফিসারই ‘কর্তব্যে অবহেলা’ করেন। বহু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত হয়েও পদক্ষেপে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকেন। তা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ আছে। বর্তমানে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে পালাবদলের পরে সেই সব ক্ষোভ নানা জায়গায় প্রকাশও পাচ্ছে। সেই সূত্রেই মনে করা হচ্ছে, এ বছর লোকায়ুক্তের দফতরে অভিযোগের পরিমাণ আগের বছরের থেকেও বাড়তে পারে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Lokayukta

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy