Advertisement
E-Paper

বহু হাইস্কুলে প্রশাসক বসাচ্ছে রাজ্য

রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা অভিযান (আরএমএসএম) প্রকল্পে সরকারি নির্দেশিকা মেনে রাজ্যের বেশির ভাগ হাইস্কুলই এখনও পর্যন্ত নতুন পরিচালন সমিতি গড়তে পারেনি। কেন্দ্র সরকারের অনুদান পেতে এ বার ওই সব হাইস্কুলে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। বিভিন্ন চক্রের (সার্কেল) স্কুল পরিদর্শকদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর।

নুরুল আবসার

শেষ আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:২৪

রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা অভিযান (আরএমএসএম) প্রকল্পে সরকারি নির্দেশিকা মেনে রাজ্যের বেশির ভাগ হাইস্কুলই এখনও পর্যন্ত নতুন পরিচালন সমিতি গড়তে পারেনি। কেন্দ্র সরকারের অনুদান পেতে এ বার ওই সব হাইস্কুলে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। বিভিন্ন চক্রের (সার্কেল) স্কুল পরিদর্শকদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর।

ওই সব হাইস্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি কে হবেন, তা নিয়ে শাসকদলের অন্দরে গোলমালের জেরেই সমিতি গড়া যাচ্ছে না এবং তার ফলে কেন্দ্রীয় অনুদান মিলছে না বলে বিভিন্ন হাইস্কুল এবং শিক্ষা দফতরের একাংশের অভিমত। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা চাইনি স্কুলগুলি দুর্ভোগে পড়ুক। সেই কারণেই প্রশাসক বসিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসক বসানো মানেই হল স্কুলগুলি সরকারি মদতপ্রাপ্ত হিসাবে পরিচিত হল। ফলে, তাদের আর আরএমএসএম প্রকল্পে টাকা পেতে অসুবিধা হবে না।’’

২০০৯ সালে এ রাজ্যে চালু হয় আরএমএসএম। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠনের সহায়ক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র এই প্রকল্পে অনুদান দিচ্ছে। তবে অনুদান পাওয়ার প্রধান শর্ত, স্কুলগুলিকে পরিচালন সমিতি গঠন করতে হবে সরকারি নিয়ম মেনে। পদাধিকার বলে নতুন পরিচালন সমিতির সম্পাদক হওয়ার কথা প্রধান শিক্ষকের। সভাপতি হবেন স্কুল শিক্ষা দফতরের পাঠানো প্রতিনিধি। প্রধান শিক্ষক এবং সভাপতি মিলে সমিতির বাকি সদস্যদের নাম ঠিক করবেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে সভাপতি মনোনয়নকে কেন্দ্র করেই। নিয়ম হল— স্কুল শিক্ষা দফতরে সভাপতির নাম পাঠাবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়ক বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিধায়ক বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এই নাম পাঠাতে পারেননি।

স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, রাজ্যের ১২ হাজার হাইস্কুলের প্রায় প্রতিটিই সরকারি মদতপ্রাপ্ত স্কুলে পরিণত হওয়ার জন্য আবেদন করে। মাত্র হাজার তিনেক স্কুলে নতুন সমিতি গঠিত হয়েছে। তারা আরএমএসএম প্রকল্পে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানও পেয়েছে। এ ছাড়াও বাছাই করা স্কুলগুলিকে দেওয়া হয়েছে গড়ে ৫০ লক্ষ করে টাকা। বাকি স্কুলগুলিতে পরিচালন সমিতি গঠিত না হওয়ায় এই প্রকল্পের টাকা আসেনি।

হাওড়ার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘‘২০১৩ সালে আমরা সরকারি মদতপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য আবেদন করি। কিন্তু এখনও স্কুলের সভাপতি কে হবেন তা চূড়ান্ত হয়নি। ফলে, নতুন পরিচালন সমিতি গঠন হয়নি।’’

কেন্দ্রীয় অনুদান পেতে রাজ্য সরকার হাইস্কুলগুলিতে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নিলেও তাতে আখেরে কতটা কাজ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বেশ কয়েকটি স্কুলের কর্তৃপক্ষ। তাঁরা মনে করছেন, স্কুল পরিদর্শকেরা প্রাথমিক স্কুলের বিষয়ে অভিজ্ঞ। সেই অভিজ্ঞতা তাঁরা হাইস্কুলের কাজে কতটা লাগাতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তা ছাড়া, প্রয়োজনের তুলনায় স্কুল পরিদর্শকদের সংখ্যা কম। এক এক জন পরিদর্শক একাধিক সার্কেলের দায়িত্ব সামলে হাইস্কুলের কাজ কতটা করতে পারবেন তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

হাওড়ারই একটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মনে করছেন, নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হবে স্কুল পরিদর্শকদের প্রশাসক হিসাবে বসালে। কারণ, কাজ তো দূরের কথা তাঁরা সমিতির বৈঠক ডাকার সময় পাবেন কিনা সন্দেহ। তবে শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, ‘‘মাত্র দু’তিন মাসের ব্যাপার। নতুন পরিচালন সমিতি গঠিত হয়ে গেলেই প্রশাসকদের তুলে নেওয়া হবে।’’

২০০৯ সালেই রাজ্যে আরএমএসএম প্রকল্প চালু হওয়ার সময় স্কুল শিক্ষা দফতর থেকে সরকারি নির্দেশিকা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দু’তিন বছরেও যে সমিতি গড়া হল না, সেখানে দু’তিন মাসে কী ভাবে তা গড়া হবে, তার উত্তর অবশ্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে মেলেনি।

Administrator high school teacher Partha Chattapadhya
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy