E-Paper

নাম বাদ: জেলা-কর্তাদের দায়িত্ব, বার্তা দিল কমিশন

কমিশন সূত্রের বক্তব্য, প্রায় ৩১.২৫ লক্ষ ‘আন-ম্যাপড’ (২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় যাঁদের নিজস্ব বা নিকটাত্মীয়ের নামের সঙ্গে মিল নেই) ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে সেই শুনানি চলছে রাজ্যের অন্তত ৩২৩৪টি কেন্দ্রে।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩০
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের শুনানিতে ভিড়।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের শুনানিতে ভিড়। ছবি: গৌতম প্রামাণিক।

‘আন-ম্যাপড’ ভোটারদের শুনানি প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্বে। কিন্তু এখনও কোনও ভোটারকে গ্রহণ বা বাদ দেওয়াই হয়নি! এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন বার্তা দিল, ভোটারের বৈধতা বিচারের সিদ্ধান্ত জেলা-কর্তাদেরই নিতে হবে। কমিশনের ঘাড়ে ঠেলে দেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট মহলের সন্দেহ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই হয়তো ‘দায় এড়ানো’ চলছে জেলায় জেলায়। এ নিয়ে সব জেলাশাসকদের থেকে রিপোর্টও চেয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) কার্যালয়। পাল্টা যুক্তিতে অবশ্য বলা হয়েছে, লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সি বা তথ্যে অসঙ্গতির প্রক্রিয়া নিয়েই যেখানে সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে কমিশন আর ঝাড়াইবাছাইয়ের দায় নিজেদের ঘাড়ে না রেখে পুরোটাই ইআরও, এইআরও-দের উপর চাপিয়ে দিতে চাইছে।

কমিশন সূত্রের বক্তব্য, প্রায় ৩১.২৫ লক্ষ ‘আন-ম্যাপড’ (২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় যাঁদের নিজস্ব বা নিকটাত্মীয়ের নামের সঙ্গে মিল নেই) ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে সেই শুনানি চলছে রাজ্যের অন্তত ৩২৩৪টি কেন্দ্রে। এত দিনে বেশির ভাগ শুনানি শেষও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু লক্ষ করা যাচ্ছে, শুনানি হয়ে গেলেও ভোটারদের বৈধতা বিচার করে কাউকে তালিকাভুক্ত বা বাদ দেওয়া হয়নি এখনও। শুধুমাত্র যতটা সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কমিশনের দিকে। অথচ কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটারের যোগ্যতা নির্ধারণের

প্রাথমিক দায়িত্ব ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং এইআরও-দের। কিন্তু তাঁরা তা নাকরায় সন্দেহ তৈরি হচ্ছে কমিশন-কর্তাদের মধ্যে। তাঁদের অনুমান, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবেরকারণেই হয়তো এমন পদক্ষেপ করতে হচ্ছে জেলা-আধিকারিকদের একাংশকে। যাতে ভোটার বাদ দেওয়ারদায় কমিশনের উপরেই চাপে।

কোন জেলায় ভোটার-আবেদন নিষ্পত্তির অগ্রগতি কতটা, সম্প্রতি কমিশন তা প্রত্যেক জেলাশাসকের থেকে জানতে চেয়েছে। কোথাও কোনও বকেয়া থাকলে জানাতে হবে তার কারণ-সহ সবিস্তার তথ্যও। এক কর্তার কথায়, ‘‘সব ঠিক থাকলে ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পেতে পারে। কিন্তু এখনও কোনও ভোটারকে বৈধ বা অবৈধ বলে চিহ্নিত করা না হলে, সেই কাজ আটকে থাকবে।’’

এই অবস্থায় কমিশনের তরফে স্পষ্ট করে জেলা-কর্তাদের জানানো হয়েছে, শুনানিতে জমা পড়া নথি পাঠাতে হবে জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের। তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা দফতর থেকে সেই নথিগুলি পুনর্যাচাই করে রিপোর্ট পাঠাবেন ইআরও এবং এইআরও-কে। তার ভিত্তিতে ইআরও এবং এইআরও-কেই ভোটারের বৈধতা-সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রথম বারের ডাকে কোনও ভোটার শুনানিতে হাজির না হলে, তাঁকে দ্বিতীয় বার ডাকা হবে। তখনও তিনি হাজির না হলে অথবা হাজিরা-প্রশ্নে নিরুত্তর থাকলে বাদ যাবে সংশ্লিষ্টের নাম। ততে যদি সেই ব্যক্তির আপত্তি থাকে, তিনি তখন ফর্ম-৬ দাখিল করে ভোটারের তালিকাভুক্ত হওয়ার আবেদন করতে পারবেন। তৃতীয় ধাপে বলা হয়েছে, বৈধ নথি না থাকলে সেই ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে সঙ্গে সঙ্গে। এর জন্য কমিশনের নির্দেশের অপেক্ষা করতে হবে না।

তবে জেলাস্তরে এই সব কিছুর পরে কমিশনের নিযুক্ত পর্যবেক্ষকেরাও নথি-বৈধতা যাচাইয়ের কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। কোনও কারণে যদি দেখা যায়, অবৈধ বা অসাধু উপায়ে এমন কোনও ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যিনি ভোটার হওয়ার যোগ্য নন, তখন সংশ্লিষ্ট জেলা-আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সুযোগ থাকবে কমিশনের কাছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Special Intensive Revision Election Commission of India

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy